Thursday, 21 September 2017

মহররম মাস এলেই এক শ্রেণীর মানুষ তাজিয়া, শোকগাঁথা পাঠ, শোক পালন, মিছিল বের করা, শোক প্রকাশ্যে নিজের শরীরকে রক্তাক্ত করা প্রভৃতি কাজ করে থাকেন। এ ধরনের কোনো রেওয়াজ ইসলামের কোথাও বর্ণিত হয় নি। এসব রসম-রেওয়াজের কারণে এ মাসটিকেই অশুভ মাস মনে করার একটা প্রবণতা অনেক মুসলমানের মধ্যেও লক্ষ করা যায়। এগুলো অনৈসলামিক ধারণা ও কুসংস্কার।


মতাদর্শে হিজরী ৬১ সনের ১০ মহররম ঐতিহাসিক কারবালার প্রান্তরে অত্যাচারী শাসক ইয়াজিদের বাহিনী কর্তৃক হজরত ইমাম হোসাইন রাঃ-কে যে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়, সেই হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণেই পালিত হয় আশুরা। মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আরবি ‘আশারা’ অর্থ দশ। সেই জন্য মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলে ।


. এ বছর মহররম মাস শুরু ২২ সেপ্টেম্বর থেকে।


মহররম মাসের  তাৎপর্য :------------ 

-----------------------------------------
আল্লাহপাক এ তারিখে আসমান, জমিন, লওহে কলম সৃষ্টি করেছেন এবং এই ১০ মহররম মহাপ্রলয় বা কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

আল্লাহতায়ালা আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-কে ১০ মহররম দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ঈমানের মহা কঠিন পরীক্ষা দিতে নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন ১০ মহররম।

১০ মহররম খোদাদ্রোহী ফেরাউন বিপুল সেনাবাহিনী নিয়ে নীল দরিয়ার অতল তলে তুবে মরে আর হযরত মুসা (আঃ) বনি ইসরাইলদের নিয়ে পানির ওপর দিয়ে পার হয়ে যান।

হযরত ইউনুছ (আঃ) ৪০ দিন মাছের পেটে অবস্থানের পর ১০ মহররম নাজাত পেয়েছিলেন।

হযরত নূহ (আঃ) ৪০ দিনের মহাপ্লাবনের পর ১০ মহররম নৌকা থেকে বেলাভূমিতে অবতরণ করেন।
হযরত ঈসা (আঃ) ইহুদিদের অত্যাচার, নির্যাতন শূলদণ্ড থেকে মুক্তি লাভের জন্য সশরীরে চতুর্থ আসমানে উপস্থিত হন ১০ মহররম।

হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর হারানো ছেলে হজরত ইউসুফ (আঃ)- কে ফিরে পান এবং দৃষ্টিশক্তি আবার ফিরে পান ১০ মহররম।
ধৈর্য, সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক হযরত আয়ুব (আঃ) ১৮ বছর কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত থেকে আল্লাহপাকের ইচ্ছায় ১০ মহররম আকস্মিকভাবে আরোগ্য লাভ করেন।

কাবাঘরের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং ঐতিহাসিক কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা সংগঠিত হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।


এই দিনের নেক আমল:
নামাজ: ------------------------------------

হযরত আলী (রা:) হতে বর্ণিত: রাসুলে পাক (সা:) বলেন যে ব্যাক্তি মহররমের দশম রাত্র জেগে এবাদত করবে, আল্লাহ তাকে উত্তম জীবন দান করবেন।

গাউছুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জ্বীলানী (রহ:) বলেন যে ব্যাক্তি মহররমের দশম রাত্র জেগে এবাদত করবে, তার মৃত্যু হবে কষ্টহীন এবং আরামের।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন এক নিয়তে চার রাকাত নফল নামাজ যার প্রত্যেক রাকাতে একবার সুরা ফাতেহা, তিন বার সুরা এখলাস, এবং এক বার আয়তুল কুরসী।এভাবে নামাজ শেষে ১০০ বার সুরা এখলাস পাঠ। এভাবে নামাজ আদায় করলে গুনাহ মাফ হবে এবং জান্নাতের অসীম নেয়ামত হাসেল হবে।রাহাতুল কুলুব গ্রন্থে একবার সুরা ফাতেহা, ১০ বার সুরা এখলাস এবং ৩ বার আয়াতুল কুরসী পড়ার কথা বলা হয়েছে।
 (রাহাতুল কুলুব-পৃষ্ঠা ২২৫)

গুনিয়াতুত ত্বালেবিন গ্রন্থে ১০০ রাকাত নফল নামাজের কথা বলা হয়েছে। দুই দুই রাকাত করে। প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতেহা ১ বার এবং সুরা এখলাস ১০ বার। এভাবে ১০০ রাকাত নামাজ আদায় করলে সেই ব্যাক্তির উপরে ৭০টি রহমতের নযর করবেন।যার মধ্যে সর্ব নিম্নটি হলো গোনাহ মাফ।

রোযা: ------------------------------ 

আবু হোরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন রমজানের রোযার পরে, সবচেয়ে উত্তম রেযা হলো মহররম মাসের (আশুরার) রোযা এবং ফরজ নামাজের পরে সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাত্রীকালীন (তাহাজ্জুদ) নামাজ (মুসলিম শরীফ)

কুরআন-হাদীসের আলোকে মহররম মাস: -----------------------------


কুরআন মাজীদে ও হাদীস শরীফে মহররম মাস সম্পর্কে যা এসেছে তা হল, এটা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ মাস। কুরআনের ভাষায় এটি ‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসে রোযা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমযানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোযা হল সর্র্বশ্রেষ্ঠ।’ -সহীহ মুসলিম ২/৩৬৮; জামে তিরমিযী ১/১৫৭

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ -সহীহ বুখারী ১/২১৮
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাদীনাহ্তে এলেন, তখন ইয়াহূদীগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মূসা (‘আ.) ফিরাউন-এর উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সহাবীদের বললেন, মূসা (‘আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা সওম পালন কর। [২০০৪] (আ.প্র. ৪৩১৯, ই.ফা. ৪৩২০)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৬৮০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রমযান মাসের পর সর্বোত্তম সাওম হল মুহররম মাসের সাওম (আশুরার সাওম) এবং ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাত্রের সালাত।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১৬১৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

আবূ কাতাদাহ আল-আনসারী (রাঃ) বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আরাফাহর দিনে সওম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন-এর দ্বারা বিগত ও আগত এক বছরের গোনাহ (পাপ) মোচন হয়। "আশুরাহর দিনের সওম পালন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন-বিগত এক বছরের পাপ মোচন হয়। সোমবারের দিনে সওম পালন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন, এটা সেদিন যেদিন আমি জন্মেছি এবং নুবুওয়াত লাভ করেছি আর আমার উপর (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে।" [৭২৫]
বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ৬৮০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

হযরত আলী (রা:) কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবি করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’- জামে তিরমিযী ১/১৫৭

অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’- সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’- মুসনাদে আহমদ ১/২৪১
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’- সহীহ মুসলিম ১/৩৫৯

মহররম মাসের অপসংস্কৃতি ও বিধি-নিষেধ ----------------

মহররম মাস এলেই এক শ্রেণীর মানুষ তাজিয়া, শোকগাঁথা পাঠ, শোক পালন, মিছিল বের করা, শোক প্রকাশ্যে নিজের শরীরকে রক্তাক্ত করা প্রভৃতি কাজ করে থাকেন। এ ধরনের কোনো রেওয়াজ ইসলামের কোথাও বর্ণিত হয় নি। এসব রসম-রেওয়াজের কারণে এ মাসটিকেই অশুভ মাস মনে করার একটা প্রবণতা অনেক মুসলমানের মধ্যেও লক্ষ করা যায়।
এগুলো অনৈসলামিক ধারণা ও কুসংস্কার।


মোটকথা, ---------------------- 

 এ মাসের করণীয় বিষয়গুলো যখা, তওবা- ইস্তেগফার, নফল রোযা এবং অন্যান্য নেক আমল। এসব বিষয়ে যত্নবান হওয়া এবং সব ধরনের কুসংস্কার ও গর্হিত রসম-রেওয়াজ থেকে বেঁচে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক চলাই মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।
বলাবাহুল্য, উম্মতের জন্য এই শোক সহজ নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই তো শিক্ষা-‘নিশ্চয়ই চোখ অশ্রুসজল হয়, হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা মুখে এমন কিছু উচ্চারণ করি না যা আমাদের রবের কাছে অপছন্দনীয়।’


বলাবাহুল্য, উম্মতের জন্য এই শোক সহজ নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই তো শিক্ষা-‘নিশ্চয়ই চোখ অশ্রুসজল হয়, হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা মুখে এমন কিছু উচ্চারণ করি না যা আমাদের রবের কাছে অপছন্দনীয়।’


অন্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই যারা মুখ চাপরায়, কাপড় ছিড়ে এবং জাহেলি যুগের কথাবার্তা বলে।’অতএব শাহাদাতে হুসাইন (রা)কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়া এবং সব ধরনের জাহেলি রসম-রেওয়াজ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য।

Wednesday, 20 September 2017

সুরাতুল ফাতিহার প্রথম দুটি আয়াত এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা--

--
-- ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﮧ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﯿﻢ -

- ♡ ﺁﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﮧ ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﯿﻦ۔ ♡
ﺍﻟﺮﺣﻢﻥ ﺍﻟﺮﺣﯿﻢ -
অর্থ--1,যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের প্রতিপালক।
2,যিনি অত্যান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
[1]"আলহামদুলিল্লাহ" যদিও প্রশংসার জন্য কিন্তু এর মাঝে অতি সুক্ষতার সাথে বর্ননা করেছেন যে সকল সৃষ্টি বস্তুর উপাসনা রহিত করা হল।
এবং অতি হিকমতের সাথে তাওহিদ ঈমানের সর্ব প্রথম স্তর তথা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপূর্ন নকশাও তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেছেন--
"পৃথিবীতে এমন কোন প্রানি নেই যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ন্যস্ত নয়""
(11:6)
তিনি আরো বলেন--
আর পৃথিবীকে আমি বিস্তৃত করেছি তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক জিনিসকে আমি সুপরিমিত ও ভারসাম্য ভারসাম্য সহকারে উদগত করেছি।
(15:19)

আমরা যে দুনিয়াতে বাস করছি এর মাঝে কোটি কোটি আল্লাহর সৃষ্টবস্তু রয়েছে।
এ পৃথিবীতে মানুষের দৃষ্টিগোচরের বাইরেও অনেক সৃষ্টি রয়েছে ইমাম রাযী তাফসিরে কাবীরে লিখেছেন এ সৌর জগতের বাইরেও আরো সীমাহীন জগত রয়েছে।
ঈমাম আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেছেন চল্লিশ হাজার জগত রয়েছে। এ পৃথিবী একটি জগত বাকী গুলো প্রত্যেকটি এর অনূরুপ।

হযরত মাকাতিল রা হতে বর্নিত জগতের সঃখ্যা আশি হাজার। তবে মানুষ বা প্রানী বাসের উপযোগী নয়।
ঈমাম রাযী তার উত্তরে বলেছেন এটি জরুরী নয় যে সেখানে মনুষ্য বাসের উপযোগী হতে হবে বরং এ রকম ই বা হবে না কেন যে সেসব জগতের অধিবাসীর অভ্যাস প্রকৃতি এ জগতবাসির অভ্যাসের সম্পূর্ন ভিন্ন।
আজ হতে সাতশত বছর পূর্বে মুসলিম দার্শনিকগন এসকল তথ্য লিখেছেন যা আজ বৈজ্ঞানিকগন রকেট বৈজ্ঞানিক যানের মাধ্যমে তার কিছু প্রমান পাচ্ছেন।
আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির পরিধি কতদূর বিস্তৃত তা পরিমাপ করে শেষ করা সম্ভব নয় কারো।
কিন্তু এ সকল সৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু একমাত্র মানুষ। আমাদের অস্তিত্ব আমাদের শান্তিপূর্ন ঈমানের সহিত অবস্থানের জন্য সকল কিছুর সুক্ষ প্রতিপালন ব্যবস্থা। 

এ আলোচনা থেকে পরিস্কার বুঝা যায় ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﯿﻦ রাব্বিল আলামিন (বা যিনি সৃষ্টি জগতের প্রতিপালক) এর প্রতিপালন নীতি পূর্বের বাক্য ﺍﻟﺤﻤﺪﻟﻠﮧ সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁর যথার্থ।।

[2]_দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখিত
"আররহমান",, "আররাহিম" উভয় শব্দই গুনের আধিক্য বিশেষ যাতে আল্লাহ তায়ালার অসাধারনত্ব পূর্নতার কথা বুঝায়। বিশাল সৃষ্টি জগতের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ।এতে তাঁর নিজস্ব প্রয়োজন নেই।
যদি সৃষ্টির অস্তিত্ব না থাকে ।সৃষ্টির সকল কিছু তাঁর অবাধ্য হয়ে যায় তাতে তাঁর কোন লাভ ক্ষতি নেই। ।
তিনি আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি সব সময় দয়াবান ।।
#মাআসসালাম

Monday, 18 September 2017

নফল_নামাজের_গুরুত্ব

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম ইরশাদ করেন আল্লাহ পাক বলেছেন----------------------
আমার কিছু বান্দানফল নামাজ পড়তে পড়তে আমার এত আপন হয়ে যায় যে আমি তার চোখ হয়ে যাই যার থেকে সে দেখে,আমি তার জবান হয়ে যাই যার থেকে সে বলে,আমি তার হাত হয়ে যাই যার থেকে সে কাজ করে।সে আমার মর্জির বিরুদ্ধে কোন কাজ করে না।।


নফল নামাজের মধ্যে সর্বোত্তম নামাজ তাহাজ্জুদ নামাজ অতপর ইশরাক,চাশত, আওয়াবীন নামাজ।
প্রতিদিন অল্প কিছু সময় এ নামাজের জন্য ব্যায় করলে কত বড় ফযিলত লাভ করা যায় একবার ভাবুন।।


নফল নামাজ না পরলে অবশ্যয়ই গুনাহগার হয় না।কিন্তু আরো কতিপয় কারনে নফল নামাজ আবশ্যক।।দেখুন
1 ফরজ নামাজ আল্লাহ তায়ালার আদেশে পালন করা হয় কিন্তু নফল নামাজের দ্বারাই আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামতের প্রকৃত শুকরিয়া আদায় হয় ।


2 আত্বশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুস্টি নফল নামাজে তাছারা বিচার দিবসে মিজানে পাল্লা ভারি করার অন্যতম মাধ্যম নফল নামাজ ।


3 আল্লাহ তায়ালার আদিষ্ট ও অলঙ্ঘনীয় সুন্নত নামাজ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এর উম্মতের মধ্যে থাকার জন্য আদায় করতে হয় ।কিন্তু নফল একমাত্র আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের জন্য আত্মাকে নানা প্রকার কুমন্ত্রনা হতে রক্ষার জন্য নফল বন্দেগী আবশ্যক । 


4 সর্বোপরি ফরয ও ওয়াজিব নামাজের ভুল ত্রুটির ক্ষতিপূরনের জন্য বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া জরুরী।।


ইনশা আল্লাহ সকলেই আমরা নফল নামাজের প্রতিও যত্নবান হবো । কমপক্ষে চার রাকাত করে হলেও রেগুলার আদায় করলে এর ফায়দা লাভ করা যাবে ইনশা আল্লাহ।।

Saturday, 16 September 2017

খুব পরিচিত কিছু স্বভাব-যার কারনে আমরা জাহান্নামী হতে পারি---


১. আমাকে কেউ একজন একটা কথা বলে বললো কাউকে না বলার জন্য। কাউকে না বলার শর্তে আমি সেটা আরেকজনকে বলে দিলাম। এটা আমানতের খিয়ানত। এটা মুনাফেকি করা। জাহান্নামের উদ্বোধন হবে মুনাফিক দিয়ে। কাফের, মুশরিক দিয়ে নয়।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[সূরা নিসা-৪/১৪৫, বুখারী-৩৩]

.

২. আমি গুলশানে দাঁড়িয়ে কাউকে মোবাইল ফোনে বললাম আমি তো মতিঝিল চলে এসেছি। এটাও মুনাফেকি। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[সূরা নিসা-৪/১৪৫, বুখারী-৩৩, ইবনে হিব্বান-৪১৮৭]
.

৩. কিছুদিন আগেও তুই আমার কাছে আসতি একটা চাকরির জন্য। চাকরি দিলাম। আজকে টাকা হয়েছে আর সব ভুলে গেলি? আল্লার রাসুল (সাঃ) বলেছেন-এই জাতীয় কথা বলার (অর্থাৎ, উপকার করে খোঁটা দেয়া) পরিণাম জাহান্নাম। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[সূরা বাকারা-২/২৬৪, মিশকাত-২৭৯৫. আবূ দাঊদ-৪০৮৭, নাসাঈ-২৫৬৩, তিরমিযী-১২১১, ইবনু মাজাহ-২২০৮]
.

৪. রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটা মেয়ের দিকে তাকালেন। মেয়েটা ইসলামি পোশাক পড়া না থাকলে উভয়েই যিনাকারী। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[সূরা নূর-৩০,৩১, বুখারী-৬২৪৩, মুসলিম-৬৫১২]
.

৫. আপনি জীবিত এবং সুস্থ্য থাকা অবস্থায় আপনার স্ত্রী বাজার করে অথবা বেপর্দা ঘুরে। এই পুরুষ দাইয়ূস। এর অবস্থান সরাসরি জাহান্নাম।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[মুসনাদে আহমাদ-৫৮৩৯, সহিহুল জামে-৩০৫২]
.

৬. সন্তান বড় হয়েছে অথচ তাকে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষা দেননি। সালাতের জন্য তাগাদা দিচ্ছেন না। এই সন্তান তার বাবার ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে জান্নাতে চলে যেতে পারে। বাবা আটকে যাবে। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[আবূ দাউদ-৪৯৫, মুসনাদে আহমাদ-৬৬৮৯]
.

৭. আপনার (পুরুষের) পোশাক পায়ের টাখনুর নীচে থাকে। বিনা বিচারে জাহান্নামে যাওয়ার প্রস্তুতি আজই নিয়ে রাখেন। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[আবূ দাঊদ-৪০৮৭, নাসাঈ-২৫৬৩]
.

. কারও হক্ব নষ্ট করেছেন বা দুর্নীতি করে টাকা ইনকাম করেছেন। যদি আখিরাতে বাঁচতে চান তবে যার টাকা বা হক্ব তাকে ফেরত দিন। আখিরাতে সে আপনার সমস্ত নেক আমল ধরে টান দিবে। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[ইবনু মাজাহ, হাদিসে কুদসি-১৪২, মিশকাত-৩৭৫৩, তিরমিযী-২৪১৮]
.

৯. বয়স ছিলো, ক্ষমতাও ছিলো। রিক্সাওয়ালাকে বা কাজের লোককে একটা চড় মেরেছিলেন। এর নাম জুলুম। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে তার হাত ধরে ক্ষমা চেয়ে নিন। একদিন আপনার আমলনামা সে টান দিবেই।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
 [সূরা আরাফ-৭/৪৪, সূরা শুরা-৪২, ৪৩, হাদিসে কুদসি-১৪২, তিরমিযী-২৪১৮]
.

১০. (মহিলারা) গায়ে সুগন্ধি মেখে পর পুরুষের পাশ দিয়ে হেঁটে গেছেন। এরকম কাজ জীবনে যতবার করেছেন ততবার আপনি যিনার পাপ করেছেন। 


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল ---
[তিরমিযী-২৭৮৬, সহীহুল জামে-৪৫৪০, মুসনাদে আহমাদ-১৯৩৬]
.

আর যতবার আপনি ভ্রু উঠিয়েছেন ততবার আপনি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর নিকট হতে অভিশাপ পেয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[বুখারী-৫৯৪৮, মুসলিম-২১২৪, আবু দাউদ-৪১৬৮, তিরমিযী-২৭৮২]
.

১১. যতবার আপনি সুদ খেয়েছেন বা দিয়েছেন বা সুদের কাজে সহযোগিতা করেছেন ততবার আপনি আপনার মায়ের সাথে যিনার পাপ করেছেন।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[মিশকাত-২৮০৭, ২৮২৬]

.

১২. যতবার আপনি কোনও অমুসলিমকে খাইয়েছেন বা উপকার করেছেন ততবার আপনি দানের ছাওয়াব পেয়েছেন। আর যতবার আপনি তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছেন বা তাকে এসএমএস দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ততবার আপনি শিরক করেছেন। আখিরাতে বিচার ছাড়াই আপনি জাহান্নামী। তাওবা করলে বেঁচে যাবেন।


 সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল ----------------
[সূরা আলে ইমরান-৩/৮৫, মিশকাত-৪৩৪৭, ৪৬৮৯, তিরমিযী-২৬৯৫, আবূ দাউদ-৪২৫২, মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিস শাইখ ইবনে উছাইমীন ৩/৩৬৯]
.

১৩. যতবার আপনি জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিবাহ বার্ষিকী, কুলখানি, চেহলাম বা কোনও দিবস পালন করেছেন ততবার আপনি বিদাত করেছেন। রাসুল (সাঃ) এর সুপারিশ আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দলিল --
[বুখারী-৫৭৭২, মুসলিম-১৭১৮, মিশকাত-১৪০]
:
.

________________________

উপরোক্ত গুনাহসমূহের মধ্যে যেগুলো আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত সেগুলো তাওবা করলে ক্ষমা হবে ইনশাআল্লাহ। কারন আল্লাহ বলেনঃ
“নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [সূরা নিসা: ৪/১১৬]
:
আর গুনাহ যদি বান্দার সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে তা বান্দার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আখিরাতে তিনি মহাবিপদে পড়বেন।


.শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান,,,

Wednesday, 13 September 2017

একে বলা হয় সিলিকা জেল। এর কাজ হল আর্দ্রতা শুষে নিয়ে নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখা।

নতুন জুতো বা প্লাস্টিকের বোতলের ভিতর জিনিসটি অনেকেই পেয়েছেন। অনেক সময়ে ওষুধের শিশিতেও রাখা থাকে এই ধরনের ছোট্ট সাদা একটি থলি। 

উপর থেকে স্পর্শ করলে মনে হতে পারে ভিতরে বুঝি নুন জাতীয় কিছু রয়েছে। গায়ে লেখা থাকে সতর্কবার্তা—খেয়ে ফেলবেন না, কিংবা শিশুদের থেকে দূরে রাখুন। 

কেউ যদি কৌতূহলী হয়ে থলিটি খুলে দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন ভেতরে রয়েছে ছোট ছোট সাদা, কিছুটা স্বচ্ছ একগুচ্ছ দানা। 

একে বলা হয় সিলিকা জেল। 

এর কাজ হল আর্দ্রতা শুষে নিয়ে নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখা। আমরা সাধারণত নতুন কেনা কোনও জিনিসের ভেতর সিলিকা জেলের থলি পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিই। আদপে এই সিলিকা জেলের থলি কিন্তু নানা কাজে লাগতে পারে। 

যদি নতুন কেনা জিনিসের সঙ্গে পাওয়া সিলিকা জেলের থলিগুলি জমিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে অনেক উপকার পাবেন। ভাবছেন কী ধরনের উপকার? 

আসুন, জেনে নিই ------------------------------------------------

১. পানিতে মোবাইল ফোন পড়ে গেলে: আপনার মোবাইলটি পানিতে পড়ে গিয়েছে? কিংবা মোবাইলেই পড়ে গিয়েছে পানি? চিন্তা নেই। মোবাইলটি অফ করে ব্যাটারি, সিম, মেমোরি কার্ড সব খুলে নিয়ে শুকনো কাপড় বা তুলো দিয়ে যতটা পারেন শুকনো করে মুছে নিন। তারপর ফোনটিকে একটি প্লাস্টিকের বাক্সে রেখে ভিতরে রেখে দিন পাঁচ-ছ’টি সিলিকা জেল ব্যাগ। ব্যাগগুলি মোবাইলের সংস্পর্শে রাখতে পারলেই ভাল। এতে মোবাইলের ভিতরে জমে থাকা জলকণা ও আর্দ্রতা শুষে নিতে পারবে ব্যাগে থাকা সিলিকা জেল।


২. জিনিসপত্রকে মরচের হাত থেকে বাঁচানো: বাড়ির যে ধাতব জিনিসটিকে জং ধরা বা মরচে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে চান, সেটিকে একটি এয়ারটাইট প্লাস্টিকের বাক্সে রেখে ভিতরে রেখে দিন তিন-চারটি সিলিকা জেলের প্যাকেট। জং ধরবে না। দাড়ি কামানোর সেফটি রেজার এইভাবে রাখলে ব্লেডটি অনেকদিন চলবে। রুপো বা অন্য কোনও ধাতুর তৈরি গয়নাও এই কৌশলে রাখতে পারলে সেগুলি একদম নতুনের মতো থাকবে।


. খাবারদাবারকে তরতাজা রাখা: যে পাত্রে খাবার রাখছেন তার ঢাকনার ভেতরের দিকে কয়েকটি সিলিকা জেলের ব্যাগ সেলোটেপ দিয়ে আটকে দিন। এবার ঢাকনা বন্ধ করে দিন। খাবার অনেকক্ষণ তাজা থাকবে। ড্রাই ফুট, বাদামভাজা, ছোলাভাজা ইত্যাদির পাত্রে সিলিকা জেল রাখলে বিশেষ ফল পাবেন। তবে খেয়াল রাখবেন, সিলিকা জেলের ব্যাগ যেন খাদ্যদ্রব্যকে স্পর্শ না করে।


৪. জরুরি কাগজপত্র ও ফোটোগ্রাফকে ঠিকঠাক রাখা: আর্দ্রতার কারণে অনেক সময়েই আমাদের জরুরি কাগজপত্রে একটা স্যাঁতস্যাঁতে আঠালো ভাব চলে আসে। সেক্ষেত্রে যে ড্রয়ার বা আলমারির যে তাকে কাগজ বা ফাইলপত্র রাখছেন সেখানে কয়েকটি সিলিকা জেল ব্যাগ রেখে দিন। সম্ভব হলে ফাইলের ভিতরেও রাখুন একটি কি দু’টি ব্যাগ। দেখবেন আর ওই স্যাঁতস্যাঁতে ভাব আসবে না। ফোটো অ্যালবামের ভিতর সিলিকা জেলের ব্যাগ রাখলে ছবিগুলি একদম ঠিকঠাক থাকবে।


৫. ওষুধপত্রকে ঠিকঠাক রাখা: যে পাত্রে ওষুধ রাখছেন সেই প্লাস্টিকের শিশি বা কৌটোর ভিতরে রাখুন একটি কি দুটি সিলিকা জেল ব্যাগ। ওষুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।কাজেই এবার থেকে নতুন কেনা জিনিসের সঙ্গে পাওয়া সিলিকা জেলের ব্যাগটি ফেলে দেবেন না। এগুলি জমিয়ে রাখুন, অনেক কাজে দেবে। প্রয়োজন বোধ করলে অনলাইন শপিং মারফৎ কিনেও নিতে পারেন সিলিকা জেলের ব্যাগ।

Tuesday, 12 September 2017

সৎআমলের উপর স্থায়ী ও অটল থাকার প্রভাব ও উপকারিতা:

ক্রমাগত আমল ও তার ধারাবাহিকতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। 

রাসূলে  করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল্রা  বলেন: 

    “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল হল, যা নিয়মিতভাবে করে যাওয়া হয়, যদিও তা অল্প হয়।” (বুখারী-মুসলিম) 

সৎআমলের উপর স্থায়ী ও অটল থাকার প্রভাব ও উপকারিতা:

আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৎআমলের হেফাযতকারী বান্দাদেরকে বহুভাবে সম্মানিত ও উপকৃত করে থাকেন। যেমন:


১। স্রষ্টার সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ; যা তাকে অগাধ শক্তি, দৃঢ়তা, আল্লাহর সাথে নীবিড় সম্পর্ক ও তার উপর মহা আস্থা তৈরি করে দেয়। এমনকি তার দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা-ভাবনায় আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। 

যেমন: আল্লাহ তায়ালা বলেন-অর্থঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।”

 (সূরা তালাক: ৩ )


২। অলসতা-উদাসীনতা হতে অন্তরকে ফিরিয়ে রেখে সৎআমলকে আঁকড়ে ধরার প্রতি অভ্যস্ত করা যেন ক্রমান্নয়ে তা সহজ হয়ে যায়। যেমন কথিত রয়েছে: 

“তুমি তোমার অন্তরকে যদি সৎআমলে পরিচালিত না কর, তবে সে তোমাকে  গুনাহর দিকে পরিচালিত করবে।”


৩। এ নীতি অবলম্বন হল আল্লাহর মুহাব্বাত ও অভিভাবকত্ব লাভের উপায়। 

যেমন হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন: “আমার বান্দা নফল ইবাদতসমূহ দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতেই থাকে, এমনকি তাকে আমি মুহাব্বাত করতে শুরু করি---।” (বুখারী)


৪। সৎআমলে অবিচল থাকা বিপদ-আপদে মুক্তির একটি কারণ। যেমন নবী কারিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কে উপদেশ দেন: 

“আল্লাহকে হেফযত কর তিনি তোমাকে হেফাযত করবেন, আল্লাহকে হেফাযত করত, তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে; সুখে-শান্তিতে তাঁকে চেন। তিনি তোমাকে বিপদে চিনবেন।” 

(মুসনাদে আহমদ)


৫। সৎআমলে অবিচলতা অশ্লীলতা ও মন্দ আমল হতে বিরত রাখে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:অর্থ: 

“নিশ্চয়ই নামায অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবূত: ৪৫ )


৬। সৎআমলে অবিচল থাকা গুনাহ-খাতা মিটে যাওয়ার একটি কারণ। 

যেমন: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন: “ তোমাদের কারো দরজায় যদি একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তবে তার দেহে কি কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? 

সাহাবাগণ বলেন: না, 

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: এমনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায, আল্লাহ যার দ্বারা গুনাহ সমূহকে মিটিয়ে দেন।”

 (বুখারী-মুসলিম)


৭। সৎআমলে স্থায়ী ও অটল থাকা, উত্তম শেষ পরিণামের কারণ। যেমন: আল্লাহ বলেন:অর্থঃ 

“যারা আমার পথে চেষ্টা-সাধনা করবে অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার পথ দেখিয়ে দিব, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎআমল কারীগণের সাথে আছেন।”

 (সূরা আনকাবূত: ৬৯)


৮। এটি কিয়ামতের দিন হিসাব সহজ হওয়া ও আল্লাহর ক্ষমা লাভের উপায়।

৯। এ নীতি মুনাফেকী হতে অন্তরের পরিশুদ্ধিতা ও জাহান্নামের আগুন হতে পরিত্রাণের একটি উপায়। 

যেমন: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন: “ যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন (ক্রমাগত) জামাআতের সাথে প্রথম তাকবীর পেয়ে নামায আদায় করবে তার জন্য দু’প্রকার মুক্তির ঘোষণা:

 (১) জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি ও 

(২) মুনাফেকী হতে মুক্তি। (তিরমিযী-হাসান)


১০। এটি জান্নাতে প্রবেশের উপায়: 

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন:  যে ব্যক্তি কোন জিনিস  আল্লাহর রাস্তায় খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজা সমূহ হতে আহ্বান করা হবে। 

জান্নাতের রয়েছে আটটি দরজা: সুতরাং যে ব্যক্তি নামাযী তাকে নামাযের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদী তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি দান-খয়রাত ওয়ালা তাকে দান-খয়রাতের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে এবং যে ব্যক্তি রোযাদার তাকে রাইয়্যান নামক দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে।” 

(বুখারী-মুসলিম)


১১। যে ব্যক্তি নিয়মিত সৎআমল করে অতঃপর অসুস্থতা, সফর বা অনিচ্ছাকৃত ঘুমের কারণে যদি সে আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার জন্য সে আমলের সওয়াব লিখা হবে। 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: 

“বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফর করে, তবে তার জন্য অনুরূপ সওয়াব লিখা হয় যা সে গৃহে অবস্থানরত অবস্থায় ও সুস্থ অবস্থায় করত।” (বুখারী) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “ যে ব্যক্তির রাতে নামায ছিল কিন্তু তা হতে নিদ্রা তার উপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে আল্লাহ তার জন্য সে নামাযের সওয়াব লিখে দিবেন এবং তার সে নিদ্রা হবে তার জন্য সাদকা স্বরূপ। 

(নাসায়ী ও মুয়াত্তা মালেক-সহীহ)


কোটিপতি থেকে মুহূর্তেই হয়ে গেলেন পথের ফকির।

মিয়ানমারের টম বাজারের  খালেদা বেগমের ছিল হার্ডওয়্যার, মুদির দোকানসহ বেশকিছু দোকান, যা অন্তত কোটি টাকা মূল্যের। বাড়িও ছিল ওই এলাকার মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন। মুসলিম অধ্যুষিত ওই বাজারে তারাই ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী।



সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে সব দোকান, বাড়িসহ সহায় সম্পত্তি ফেলে ১৫ দিনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অনেক কষ্টে নাফ নদ ও কাঁটাতারের সীমারেখা পার হয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। আসার পরপরই জানতে পেরেছেন, দোকান পাট ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এখনো কোনো তাঁবু পাননি। মেলেনি কোনো ত্রাণও। আশ্রয় জুটেছে খোলা আকাশের নিচে। ফলে কোটিপতি থেকে মুহূর্তেই হয়ে গেলেন পথের ফকির।
কুতুপালং সড়কের কাছে একটি নালার কিনারে কচু বাগানে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন অজানা, অচেনা পথের দিকে। সবকিছুই তার কাছে অপরিচিত। তার কোলজুড়ে ৩ মাসের একটি বাচ্চাকেও কান্না করতে দেখা যায়। গতকাল দুপুরে যখন খালেদা বেগমের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি ছিলেন ক্ষুধার্ত। কিন্তু চেহারায় ছিল আভিজাত্যের ছাপ। ডান হাতে ছিল একটি গোল্ডেন রঙের ঘড়ি। পরনের পোশাকও ছিল অনেকটা মার্জিত। কিন্তু লজ্জায় ত্রাণের জন্য হাত পাততে পারছিলেন না।
খালেদা খানম বলেন, ‘টম বাজার এলাকায় তারা ছিলেন রাজার হালে। কোনো কিছুর অভাব ছিল না। তাদের প্রায় ১২ একর জমি ছিল। ত্রিশটির মতো গরু ছিল। দোকান পাট ছাড়াও আরও কিছু সম্পদ ছিল। সব মিলিয়ে হবে কোটি টাকার। এখন কার কাছে যাব, কি করব কিছুই দিশা পাচ্ছেন না তিনি। যৌথ পরিবারের সদস্য আলেয়া বেগমের কোলেও দেখা যায় এক ছোট্ট শিশু।’
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশে আসার পথে দুই লাখ মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াট নিয়ে আসলেও দালালদের খপ্পরে পড়ে আড়াই হাজার টাকায় তা বিক্রি করে দেন। গত দুই দিন কষ্ট করে এই টাকা দিয়ে পানি আর শুকনো কিছু খাবার কিনে বাচ্চাদের কোনোমতে খাওয়ান। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরাও না খেয়ে পথেই বসে রয়েছেন।’
ওই পরিবারের পুরুষ সদস্য আবদুল হামিদ ও মৌলভি মাইনুদ্দিন জানান, ‘তাদের পরিবারটি অনেক বড়। ৩০ সদস্যের সবাই বাংলাদেশে কষ্ট করে আসতে পারলেও সব সহায় সম্পত্তি ফেলে আসতে হয়েছে। এখন তারা শূন্য হাতে।’