Thursday, 5 October 2017

একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন আরব মায়ের পরামর্শ সন্তানকে খাস পর্দায় অভ্যস্ত করতে!! পর্দে মে রাহনে দো!


-চট করে দ্বীন পালন শুরু করা বেশ কঠিন। ছোটবেলা থেকে দ্বীনদারি-চর্চায় অভ্যস্ত করে তুলতে না পারলে, বড় হলে রাগারাগি করে সন্তানকে দ্বীনদার বানানো প্রায় অসম্ভব কাজ!
হাঁ সন্তান নিজ থেকে আগ্রহী হলে, ভিন্ন কথা!


কন্যাকে পর্দায় অভ্যস্ত করে তুলতে হলেও সেই ছোট বেলা থেকেই মেহনত শুরু করা আবশ্যক।
তিন থেকে পাঁচ বছর বয়েস থেকে শুরু হওয়াই যুক্তিযুক্ত!
কারণ এই বয়েসেই সন্তান মা-বাবা ও আশেপাশের অনুকরণ করতে শুরু করে।


আমরা একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন আরব মায়ের পরামর্শগুলো খতিয়ে দেখতে পারি।
তিনি তার চারকন্যাকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেনঃ-

:

(এক) বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময়, মেয়েকে দেখিয়ে দেখিয়ে বোরকা পরা।
মেয়ের জন্যে বোরকাধর্মী পোশাক বানানো।
যতটা সম্ভব ছোট্ট মামণিকেই নিজের বিশেষ পোষাক পরতে দেয়া।
না পারলে আম্মু বা বড় আপু হাত লাগাবে!
-

(দুই) মেয়েকে দায়িত্ব দেয়া:
-আম্মু! আমি বোরকা পরার পর, আমার চুল বাইরে থেকে দেখা যায় কি না, একটু ভাল করে দেখো তো!
চারপাশ চক্কর দাও!
আমি যখনই বোরকা পরবো, তুমি দেখবে, কোনও অংশ বোরকার বাইরে থেকে গেলো কি না!

-
(তিন) মেয়েকে বলে দেয়া: ঘরে গাইরে মাহরাম কেউ এলে, যাদের সাথে বিয়ে বৈধ! ছোট্ট বয়েসে এতটা বুঝবে না, নাম ধরে বলে দেয়া অমুক এলে, তুমি আমাকে আগেই বলে দিবে, কে এসেছে!
তাহলে আমি সতর্ক হতে পারবো!

-

(চার) যখন থেকে মেয়ে নিজে নিজে পোষাক পড়তে অভ্যস্ত হবে, তখনই বলে দেয়া:
-তুমি যখন পোষাক পরবে, তার আগে রূমের দরজা বন্ধ করে দিবে!
খোলা স্থানে কখনোই পোষাক পরিবর্তন করবে না।
-

(পাঁচ) ছেলে বা মেয়ে কাউকে যদি এভাবে তোমার সামনে পোষাক বদলাতে দেখো, তুমি সেখানে থেকে উঠে চলে আসবে। সবাই লাজুক নয়, শালীন নয়।
সে লজ্জা না পেলেও তুমি অবশ্যই লজ্জাবোধ করবে! শুধু নিজের শরীর দেখানো নয়, অন্যের শরীর দেখাও হারাম!
-

(ছয়) মায়ের দায়িত্ব হলো, মেয়েকে বলে দেয়া: আশেপাশের ছেলেদের সাথে প্রয়োজনের বেশি কথা না বলা।
যা বলার আব্বু-আম্মু বা ভাইয়াকে বলা।
পাশের বাসা বা প্রতিবেশির ছেলে ছোট হলেও মেয়েদের সাথে থাকতে অভ্যস্ত করে তোলা!
-

(সাত) মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই কুরআন কারীমের কিছু কিছু অংশ মুখস্থ করিয়ে দেয়া।
বিশেষ করে পর্দার আয়াতগুলো পড়ে শোনানো।
না বুঝলেও কুরআনের শব্দেরও অনিবর্চনীয় একটা শক্তি আছে।
ক্রমে ক্রমে আয়াতগুলোর অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যেই এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন!
তিনি তার এই ছ্ট্টো বান্দীটির কাছে কী চাচ্ছেন!
কুরআন কারীমের বরকতেই তার মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে!
পর্দা করা যে সরাসরি আল্লাহরই ইচ্ছা, সেটা বুঝতে শিখতে শুরু করবে!
-

(আট) সবচেয়ে ভাল হয়, মেয়েকে নিয়মিত কুরআন হিফয করতে অভ্যস্ত করে তোলা। এবং তাকে এর গুরুত্ব বোঝাতে শুরু করা। গল্পের মতো করে!
তার বয়েসের উপযোগী ঢঙে।
বারবার বলা: যার মধ্যে কুরআন কারীম আছে, তাকে পর্দা করে চলতে হয়। না হলে কুরআনের অপমান হয়।
আল্লাহ ও তার রাসূল নারাজ হন!

-
(নয়) সময় করে করে, দ্বীনী পরিবারগুলোতে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া। যারা দ্বীনকে তাকওয়ার মানদন্ডে মেনে চলার চেষ্টা করেন।
এই দ্বীনদার পরিবারগুলোতে কিছু মুরুব্বী থাকেন।
যারা দ্বীনকে মানতে মানতে স্বভাবে পরিণত করেছেন, তাদের সাথে নিজের কন্যাকে কিছু সময় কাটাতে দেয়া।
তাদের সাথে গল্প করতে দেয়া।
তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দেয়া।

-
(দশ) তবে খেয়াল রাখা, এসব করতে গিয়ে, মা বা বাবা যেন কখনোই কঠোরতার আশ্রয় না নেন।
তাহলে নিজের ভুলের কারণে মেয়েটা দ্বীন সম্পর্কে ভুল ধারনা নিয়ে বড় হতে পারে।
-

(এগার) সেই ছোট্টবেলা থেকেই ,মেয়ের জন্যে আলাদা একটা কুরআন কারীমের ব্যবস্থা করা।
কুরআন কারীমের আদব শিক্ষা দেয়া।
পর্দার আয়াতগুলো চিহ্নিত করে দেয়া।
মাঝেমধ্যে যেন নিজে নিজেই আয়াতগুলো পড়ে।
অর্থ আর তাফসীরও কিনে দেয়া।
এতে কুরআনের সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
পাশাপাশি দ্বীনের বিধান সরাসরি কুরআন থেকে গ্রহণ করার একটা মানসিকতা গড়ে উঠবে।

-

(বারো) মেয়ে যদি পুতুলখেলায় অভ্যস্ত হয়, সেই পুতুলকেও বোরকা পরিয়ে রাখা। কারণ বাজারে যেসব পুতুল পাওয়া যায়, প্রায় সবগুলোই পাশ্চাত্যের ঢঙে সংক্ষিপ্ত পোষাক পরানো থাকে।
এগুলো দেখে দেখে মেয়ের মনে, পোষাক নিয়ে ছাড়াছাড়ির মনোভাব তৈরী হতে পারে।
তাই তাকে বলে দেয়া: তোমার পুতুল বন্ধুকেও বোরকা পরিয়ে রাখো।
প্রথম প্রথম মা-ই পুতুলকে শালীন পোষাক পরাবে!
পরে মেয়েকে দায়িত্ব দিবে। তাহলে সে বুঝতে শিখবে, পুতুলের পোষাক বা চুলটা এভাবে রাখা ঠিক নয়।
এমন পোষাক ও বেশভূষাকে অজান্তেই অপছন্দ করতে শিখবে!
-

(তেরো) কুরআন কারীমের পাশাপাশি হাদীস শরীফও পড়তে শেখানো।
অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
পর্দাবিষয়ক হাদীসগুলো।
সামান্য ব্যখ্যাও সম্ভব হলে বলে দেয়া।
তার বুঝের স্তরের দিকে লক্ষ্য রেখে!
কারণ মায়ের কথার চেয়ে, নবীজি সা. এর কথার প্রভাব অনেক অনেক বেশি!

-
(চৌদ্দ) বুযুর্গ মহিলাদের জীবনী তার সামনে তুলে ধরা।
উম্মাহাতুল মুমিনীন, নবীজির স্ত্রীগনের জীবনী তাকে গল্পচ্ছলে শুনিয়ে দেয়া।
তার কাছ থেকেই গল্প শোনার বায়না ধরা:
-আম্মু! আমি তো সবসময়ই বলি, আজ তুমি একটা গল্প শোনাও!
ঐ যে আয়েশা রা. এর গল্প বলেছিলাম, সেটাই আমাদেরকে আজ শোনাও!
-

এভাবে মেহনত করলে, ইনশাআল্লাহ, মামণিরা খাসপর্দায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! পরিবারে তাকওয়া-পরহেযগারির পরিবেশ গড়ে উঠবে!.

আতিকউল্লাহ from

Wednesday, 4 October 2017

সব যোগ্য ব্যক্তিই আদর্শ নন! আবার অনেক আদর্শ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্বও গভীর ইলমের অধিকারী নন! তবে যে বিষয়ে তাকে আদর্শ মানবো, সে একটা বিষয়ে তিনি পারদর্শী কি না, সেটা দেখা জরুরী! সেটা পাওয়া গেলেই হয়েছে।

1: কুরআন হাদীস সম্পর্কে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করলে, একজন মানুষকে আমরা সাধারণত আলিম বলি। এ-হিশেবে বর্তমানে অসংখ্য যোগ্য ব্যক্তি আছে। 

তবে যোগ্যতা এক জিনিস, আদর্শ আরেক জিনিস। 


২. উম্মাহর ইতিহাসে, কুরআন কারীমকে অনেক গভীরে গিয়ে ভালভাবে বুঝেছেন, এমন একজন হলেন, আল্লামা যামাখশারী রহ.। তিনি এতবড় আলিম কিন্তু আমাদের আদর্শ নন!


৩. উদাহরণ টানা যাক,
-বর্তমান বিশে^ শায়খ ইউসুফ কারদাবিকে অন্যতম বড় আলিম মনে করা হয়! কিন্তু সব বিষয়ে চোখ বন্ধ করে তাকে কি আদর্শ মানা যায়? যায় না!


৪. উপমহাদেশে মাওলানা তাকি উসমানি দা বা-কে অন্যতম বড় আলেম মনে করা হয়! কিন্তু ইসলামী ব্যাংকিং ও আরও কিছু প্রশ্নে ওনার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, এমন অসংখ্য জাইয়্যেদ আলেম আছেন।



কেউ ইলমে আমলে তার সময়ের বাকি দশজনের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাই বলে তিনি আদর্শ হবেন, এমন নাও হতে পারে!

সব যোগ্য ব্যক্তিই আদর্শ নন! আবার অনেক আদর্শ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্বও গভীর ইলমের অধিকারী নন! তবে যে বিষয়ে তাকে আদর্শ মানবো, সে একটা বিষয়ে তিনি পারদর্শী কি না, সেটা দেখা জরুরী! সেটা পাওয়া গেলেই হয়েছে।
=মোটকথা, ইলম আর আদর্শ সব সময় এক জায়গায় জমা হয়, বিষয়টা এমন নয়। যদি ইলম আদর্শ এক পাত্রে মিলে যায়, সোনায় সোহাগা!

Atik ullah

Monday, 2 October 2017

ধৈর্যের অনুশীলন করার কিছু উত্তম পন্থা বুজুর্গানে দ্বীন বলে দিয়েছেন । তার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ-


#ধৈর্যের_মহত্ব


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন
"ইন্নাল্লাহা মায়াস সাবিরিন"
অর্থ যারা সবর করে আল্লাহ তায়ালা তাহাদের সাথে আছেন।।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেন
"আসসাবরু নিছফুল ঈমান"
অর্থ ছবর ঈমানের অর্ধেক।।

#ধৈর্যের অনুশীলন করার কিছু উত্তম পন্থা বুজুর্গানে দ্বীন বলে দিয়েছেন ।
তার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করছি--

1 আপন প্রবৃত্তি ও ভাবাবেগ কে সংযত রাখা
2 তাড়াহুড়া ভয় ভীতি ও উত্‍কন্ঠা থেকে মুক্ত থাকা।
3 কোন প্রলভন বা অসঙ্গত উত্‍সাহকে প্রশ্রয় না দেয়া ।
4 শান্ত মন ও সুচিন্তিত ফয়সালার ভিত্তিতে সকল কাজ সম্পাদন করা ।
5 বিপদ মুসিবতে দৃঢ় পদে তার মুকাবিলা করা ।
অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও আতঙ্ক বা অস্থিরতায় মনোবল হারানো চলবে না ।
6 উত্তেজনা ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোন অন্যায় কাজ না করা ।
7 লক্ষ অর্জনে আগ্রাহাতিশয্যে কোন অসঙ্গত পন্থা অবলম্বন করা যাবে না ।
8 পার্থিব স্বার্থ ও প্রবৃত্তির তারনায় নিজের মন কামনা বাসনাতে আচ্ছন্ন করা এবং এ সবের মুকাবিলায় দুর্বলতা প্রদর্শন করে কোন স্বার্থের হাতছানিতে আকৃষ্ট হওয়া অধৈর্যের লক্ষন

সুতরাং এ সব থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলে জীবনকে স্বাভাবিক সুন্দর রাখা সম্ভব।। 

Saturday, 23 September 2017

শয়তান থেকে বাঁচার উপায়

 (১) সর্বাবস্থায় আল্লাহর তায়ালার  কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করতে হবে 

 যে সকল ক্ষেত্রে শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করতে হয় তা হল: ------------------



(২) কুরআন তেলাওয়াত করা। বিশেষ করে সূরা বাক্বারা পাঠ করা। যে গৃহে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। (মুসলিম)

(৩) ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত) পাঠ করা। তাহলে সারা রাত তার কাছে শয়তান আসতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)


(৪) বেশী ক্রোধাম্বিত হলে আউযুবিল্লাহ... পাঠ করা এবং ওযু করা। কেননা তা একটি শয়তানী প্রবণতা। শয়তান আগুন থকে সৃষ্টি হয়েছে। আর পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। 

(৫) অধিকহারে ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা। ‘লাহওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ্’ বেশী বেশী পাঠ করা। 


(৬) শয়তানকে খুশী করে এমন আসবাব থেকে নিজ গৃহকে মুক্ত করা। যেমন বাদ্য-যন্ত্র, ঘন্টা, কুকুর, ছবি, প্রতিকৃতি, ভাষ্কর্য এবং যাবতীয় খেল-তামাশা ও গর্হিত বিষয়-বস্তু থেকে বাড়ীকে মুক্ত ও সংরক্ষণ করা। 

(৭) পরিবার এবং সন্তানদেরকে শরীয়ত সম্মত দু‘আ-যিক্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে হেফাযত করা এবং এ ঝাড়-ফুঁক নিয়মমাফিক সবসময় করা। যেমন: আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস প্রভৃতি পাঠ করা। 

(তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)


(৮) দৃষ্টি অবনত রাখা। পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকা। কেননা নারী যখন সামনে আসে তখন শয়তানের আকৃতিতে আসে আর যখন ফিরে যায় তখন শয়তানের আকৃতিতে ফিরে যায়। 

(৯) বেগানা নারীর সাথে নির্জন না হওয়া। কেননা উক্তাবস্থায় শয়তান তাদের তৃতীয়জন হিসেবে সেখানে অবস্থান করে।

(১০) ইচ্ছাকৃত ভাবে শয়তানী কাজের বিরোধিতা করা। যেমন, ডান হাতে খানা-পিনা করা। কেননা শয়তান বাম হাতে খানা-পিনা করে। (বুখারী ও মুসলিম) 

(১১) অপব্যায় অপচয় না করা। কেননা অপব্যায়কারী শয়তানের ভাই। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৭) 

(১২) প্রতিটি বিষয়ে ধীরস্থীরতা অবলম্বন করা। কেননা তাড়াহুড়া শয়তানের কাজ এবং ধীরস্থীরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে। (তিরমিযী)


(১৩) সাধ্যানুযায়ী হাই উঠানোকে প্রতিরোধ করা। কেননা হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। হাই উঠানোর সময় [হা] করলে শয়তান হাসে। (বুখারী) 

(১৪) প্রত্যেক কাজের সময় বিসমিল্লাহ্ বলা। কেননা বিসমিল্লাহ্ বললে শয়তান ক্ষুদ্র হয়ে যায় এমনকি মাছির মত ছোট্ট হয়ে যায়। 


(১৫) দিনে একশতবার পাঠ করা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লাশারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’ তাহলে শয়তান প্রতিহত হবে।

(১৬) প্রথম ওয়াক্তে ফজরের নামায আদায় করা। কেননা যে ফজর সালাত আদায় করবে সে আল্লাহ্র যিম্মাদারীর মধ্যে হয়ে যাবে। 


(১৭) সালাত অবস্থায় এদিক ওদিক না তাকানো। কেননা সালাতাবস্থায় এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। (বুখারী)

(১৮) বিনা প্রয়োজনে নারীর নিজ গৃহ থেকে বাইরে না যাওয়া। কেননা যখন সে বের হয় তখন শয়তান তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং উঁকি দিয়ে দেখে। 

Friday, 22 September 2017

সূরা কাহাফে লুকানো রহস্য ও দাজ্জাল


কখনো ভেবে দেখেছেন কি কেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রতি জুমু’আর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করতে বলেছেন? আসুন জানার চেষ্টা করি, :এই সূরাটিতে মোট চারটি শিক্ষণীয় ঘটনা আছে, প্রতিটি ঘটনাতেই আছে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য উপদেশ। আসুন সেই ঘটনাগুলো ও তার শিক্ষাগুলো কি জানার চেষ্টা করিঃ------------------

.

১) গুহাবাসী যুবকদের ঘটনাঃ সূরার শুরুতেই সেই গুহাবাসী যুবকদের ঘটনার বর্ণণা দেয়া হয়েছে যারা এমন একটি জনপদে বসবাস করত যার অধিবাসীরা ছিল অবিশ্বাসী ও সীমালংঘনকারী। কাজেই যুবকেরা সেই নষ্ট সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, ‘এদের সাথে আর নয়’। তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আল্লাহর দীনের প্রতি ভালোবাসা থেকে উজ্জিবীত হয়ে সেখান থেকে হিজরত করলেন। আল্লাহ তাদেরকে গুহাতে আশ্রয় দিলেন এবং সূর্যালোক থেকে নিরাপদে রাখলেন। বহু বছর পর যখন তাদের ঘুম ভাঙ্গলো তাঁরা দেখলেন সেই জনপদের অবিশ্বাসী লোকেরা বিদায় নিয়েছে এবং ভালো লোকদের দ্বারা মন্দ লোকেরা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
:
:

শিক্ষাঃ ঈমানের উপর পরীক্ষা।_______.

২) দুইটি বাগানের মালিক ব্যক্তির ঘটনাঃ একজন লোক যাকে আল্লাহ দুইটি প্রাচুর্যময় সুন্দর বাগান দিয়ে ধন্য করেছিলেন, কিন্তু লোকটি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে গেল এমনকি পরকালের অস্তিত্ব সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদার উপর সন্দেহ পোষণ করল। কাজেই, এই অকৃতজ্ঞ লোকটির বাগানকে আল্লাহ তায়ালা বিরান করে দিলেন-সে অনুতপ্ত হল, কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং তার এই অসময়ের অনুশোচনা তার কোন উপকারে আসল না
:

:শিক্ষাঃ সম্পদের উপর পরীক্ষা। ------------------.

৩) খিজির ও মুসা আলাইহি সালাম এর ঘটনাঃ যখন মূসা আলাইহি সালামের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে?” তিনি উত্তর করেছিলেন, “আমি”…কিন্তু আল্লাহ তাঁর কাছে উন্মোচন করে দিলেন যে, এমন এক ব্যক্তি আছেন যাকে আল্লাহ তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞান দান করেছেন। মুসা আলাইহি সালাম সেই ব্যক্তির সাথে ভ্রমণ করলেন এবং দেখলেন, শিখলেন কিভাবে অনেক সময় আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের কারণে এমন অনেক ঘটনা ঘটান যেগুলো আমাদের চোখে খারাপ বলে মনে হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো মানুষের ভালোর জন্যেই করা হয়।
:

:

শিক্ষাঃ জ্ঞানের উপর পরীক্ষা-----------------

.
) যুলকারনাইনঃ এটা সেই ক্ষমতাধর বাদশাহর ঘটনা যাকে একই সাথে জ্ঞান এবং ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল এবং তিনি সেই উভয় দানের শুকরিয়াস্বরুপ মানুষের উপকারে এবং কল্যাণে তা ব্যয় করতেন। তিনি জনপদের লোকদের ইয়াজুজ মাজুজ এর সমস্যার সমাধান করে দিলেন এবং একটি বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করে দিলেন। 
:
:

শিক্ষাঃ ক্ষমতার উপর পরীক্ষা----------------

_______________
:
:
সূরাটির মাঝামাঝি আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ইবলিসের কথা যে এই পরীক্ষাগুলোকে আরও কঠিন করে দেয়–
.
.
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
.
And [mention] when We said to the angels, "Prostrate to Adam," and they prostrated, except for Iblees. He was of the jinn and departed from the command of his Lord. Then will you take him and his descendants as allies other than Me while they are enemies to you? Wretched it is for the wrongdoers as an exchange.
.
“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম - ‘আদমকে সেজদা কর’, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।”
.
(সূরা কাহাফ, আয়াত : ৫০)

_______________
:
:

আসুন, এবারে জেনে নেয়া যাক, সূরা কাহাফ এবং দাজ্জালের মধ্যে কিসের সম্পর্ক? --------------------------
.

দাজ্জাল আবির্ভুত হবে শেষ সময়ে কিয়ামতের একটি বড় লক্ষণ হিসেবে, সে এই চারটি ফিতনা একত্রে নিয়ে আসবে–
.
••► সে মানুষকে আদেশ করবে যেন আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার ইবাদত করে - [ঈমানের উপর পরীক্ষা]
.
••► তাকে বৃষ্টি বর্ষণ/ অনাবৃষ্টি সৃষ্টির ক্ষমতা দেয়া হবে এবং সে মানুষকে তার সম্পদ দিয়ে লোভ দেখাবে - [সম্পদের উপর পরীক্ষা]
.
••► সে মানুষকে পরীক্ষায় ফেলে দিবে তার ‘জ্ঞান’ এবং নানারকম সংবাদ প্রদান করে - [জ্ঞানের উপর পরীক্ষা]
.
••► সে পৃথিবীর এক বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করবে - [ক্ষমতার উপর পরীক্ষা]
:
:

কিভাবে আমরা এই সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে পারি? সূরা কাহাফেই আছে এর উত্তর ------------------------


• ফিতনা হতে বাঁচার প্রথম উপায়ঃ সৎ সঙ্গ 

.-----------------------------------------------------------------
“আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। (সূরা কাহাফ, আয়াত : ২৮)
:

:

• ফিতনা হতে বাঁচার দ্বিতীয় উপায়ঃ এই পার্থিব জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করা.----------------------------------------

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।” (সূরা কাহাফ, আয়াত : ৪৫)
:
:
• ফিতনা হতে বাঁচার তৃতীয় উপায়ঃ ধৈর্য্যশীল থাকা
.
“মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না”। সূরা কাহাফ, আয়াত ৬৯)
:

:

ফিতনা হতে বাঁচার চতুর্থ উপায়ঃ সৎ কর্ম সম্পাদন
.--------------------------------------------------------

বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।.” (সূরা কাহাফ, আয়াত ১১০)
:
:
• ফিতনা হতে বাঁচার পঞ্চম উপায়ঃ আল্লাহর দিকে আহবান
.
“আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ২৭)
:

:

• ফিতনা হতে বাঁচার ষষ্ঠ উপায়ঃ পরকালের স্মরণ.------------------------------------

“যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না। তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না। আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৪৭-৪৯)
:
:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে যেন সকল প্রকার ফিতনা হতে রক্ষা করেন। আমিন।:

:

পরিশিষ্টঃ-------------------------

________
.
মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে – যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা করা হয়; জামে তিরমিযীতে তিনটি আয়াতের বর্ণনা রয়েছে। সহীহ মুসলিমে শেষ দশটি আয়াতের বর্ণনা আছে। সুনান নাসায়ীতে সাধারণভাবে দশটি আয়াতের বর্ণনা রয়েছে। [ইবন কাসীর]
:
:
আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন - যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। (মুসলিম : ১৭৬০ ইফা)
:
:
বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এক ব্যক্তি ‘সূরা কাহাফ’ পড়েছিলো। সেই সময়ে তার কাছে মজবুত লম্বা দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এই সময় একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হলো। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিলো এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করলো। একথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি (সাকিনা) যা কুর’আন পাঠের কারণে নাযিল হয়েছিলো। (মুসলিম : ১৭৩৩ ইফা)
:
:

আবদুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন); রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে যেভাবে কুর’আন মাজীদের সূরা শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এই দুয়াটিও শিখাতেন।
দুয়াটি হলঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্না না’উযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম ওয়া আউযুবিকা মিন আযাবিল কাবর, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতা”
- হে আল্লাহ ! আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
(মুসলিম : ইফা ১২২০)


:
:
মূলঃ "Muslim Heroes" থেকে অনূদিত
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.

যে ভুলে নারীর নামায হয় না


কিছু হুকুম আছে যা সবাই জানে, কিন্তু অসতর্কতার কারণে মানুষ ভুল করে বসে। 

 সে বিষয়গুলো যদি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তাহলে তারা সংশোধিত হতে পারে। সাধারণ সুন্নাত বা নফল বিষয় হলে সমস্যা নেই। সমস্যাতো তখন যখন সেটা ফরজ বিষয়ে হয়ে থাকে।

 নামাযের ঠিক তেমন-ই একটি অবহেলিত বিষয়; যে বিষয়ে সকলের সতর্ক হওয়া উচিত। 

বিষয়টি হচ্ছে,

#সতর_ঢাকার_বিষয়ে_অবহেলা; -----------------------

পুরুষদের সতর সাধারণত ঢাকাই থাকে। তাদের মাঝে সাধারণত এ বিষয়টি খুব কম পরিলক্ষিত হয় যে সতর খোলার কারণে নামায বাতিল হবে। তবে যারা বেশি ফিট জামা বা শারীরিক আকৃতি প্রকাশ পায় এমন পোষাক পড়েন তাদের সাবধান হওয়া উচিত।


অপরদিকে, নারী সমাজের অধিকাংশই এ বিষয়ে অসতর্ক। ফরজ পর্দা ও সতর ঢাকার বিষয়টি সাধারণত পালন করার বিষয় অবহেলা করার কারণে এ বিষয়টি সালাতেও অবহেলিত হচ্ছে। তাই যে সময় ও শ্রম দিচ্ছেন তা বিফলে যাচ্ছে একটি 
ফরজ ছুটে যাওয়ার করণে। 

অনেকে হাতের কজ্বির উপরেও খোলা রাখছেন! অনেকে মুখের সাথে গলাও খোলা রাখছেন! অনেকে ওড়নাকে পেচিয়ে নামায পড়েন যেখানে সতর ঢাকার শর্ত, “আকৃতি ঢাকা”-টা অবহেলিত হচ্ছে। অনেকে পা ঢাকার বিষয়ে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে ছাড়াছাড়ি করছেন।

পায়ের উপরিভাগ যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে। অনেকে শাড়ি পড়ে সালাত পড়ছেন স্বভাবতই সতর খোলা থাকছে বা অন্তত আকৃতি প্রকাশিত হচ্ছে। যা নামাযকে বাতিল করতে পারে। আসুন নিজের অংশটি পড়ে নিজেদের সালাত ও পরিচিতদের সালাতকে বাতিল হওয়া থেকে রক্ষা করি।

#সলাতে_নারীর_পোষাক -------------------------


সালাতে নারীর চেহারা ব্যতীত পূর্ণ শরীর সতর, তবে হাত ও পায়ের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে যদি পর-পুরুষ তাকে না দেখে। গায়রে মাহরাম বা পর-পুরুষের দেখার সম্ভাবনা থাকলে চেহারা, হাত ও পা ঢাকা ওয়াজিব। 

যেমন, সালাতের বাইরেও এসব অঙ্গ পুরুষের আড়ালে রাখা ওয়াজিব। অতএব, সালাতের সময় মাথা, গর্দান ও সমস্ত শরীর পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা জরুরি। 


উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, 

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, নারী কি জামা ও উড়নায় সালাত পড়তে পারে নিচের কাপড় ছাড়া?

 তিনি বলেন:
»إذا كان الدرع سابغا يغطي ظهور قدميها«
“যদি জামা পর্যাপ্ত হয় যা তার পায়ের পাতা ঢেকে নেয়”।

[আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৪০; মালিক, হাদীস নং ৩২৬]


.
উড়না ও জামা দ্বারাই সালাত বিশুদ্ধ।
এ দু’টি হাদীস প্রমাণ করে যে, সালাতে নারীর মাথা ও গর্দান ঢেকে রাখা জরুরি, যা আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদীসের দাবি। তার পায়ের বহিরাংশ (পাতা) পর্যন্ত শরীরের অংশও ঢেকে রাখা জরুরি, যা উম্মে সালামার হাদীসের দাবি। যদি পর-পুরুষ না দেখে চেহারা উন্মুক্ত রাখা বৈধ, এ ব্যাপারে সকল আহলে ইলম একমত।
.
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন: “কারণ নারী একাকী সালাত পড়লে উড়না ব্যবহার করার নির্দেশ রয়েছে, সালাত ব্যতীত অন্যান্য সময় নিজ ঘরে মাথা উন্মুক্ত রাখা বৈধ। অতএব, সালাতে পোশাক গ্রহণ করা আল্লাহর হক। 

অতঃপর তিনি বলেন: সালাতে সতর ঢাকার বিষয়টি দৃষ্টির সাথে সম্পৃক্ত নয়, না দৃষ্টি রোধ করার সাথে, আর না দৃষ্টি আকর্ষণ করার সাথে”।

[মাজমুউল ফতোয়া: (২২/১১৩-১১৪)] সমাপ্ত।
.

#কিছু_রেফারেন্স_ভিডিও

সালাতে মহিলাদের পোশাক, কতটুকু ঢাকা থাকবে, কোন কোন অঙ্গ ঢাকা থাকবে।
https://www.youtube.com/watch?v=aGo3ama6XJ4


#আসুন_সতর্ক_হই 

সলাতের জন্য এবং সালাতের বাহিরে ঢিলেঢালা, সতর ঢেকে রাখে এমন পোষাক পরিধানে সচেষ্ট হই।
> লজ্জাহীনতার প্রতিযোগীতার যুগে লজ্জা করে হলেও সতর চেনার চেষ্টা করি। সতর ঢেকে রাখি। সলাতের ভিতরের হুকুম যদি এমন হয় চিন্তা করা উচিত যে বাহিরে তাহলে কিভাবে বের হতে হবে।

 আল্লাহ তাওফিক দাতা।

আজওয়া খেজুর বিষ ক্রিয়া, হ্রদ রোগ ও যাদু টোনায় উপকার


আজওয়া খেজুরের ইতিহাস-: ------------------------


হযরত সালমান ফার্সীর(রা:) মালিক ছিল একজন ইয়াহুদী।
হযরত সালমান ফার্সী যখন মুক্তি চাইল তখন ইয়াহুদী এই মর্তে তাকে মুক্তি দিতে চাইল যে, যদি তিনি নিদ্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার দেন এবং তিশটি খেজুর গাছ রোপন করে আর খেজুর গাছে খেজুর ধরলে তবেই সে মুক্ত। আসলে ইহুদির মুক্তি দেবার ইচ্ছা ছিল না। কেননা সালমান ফার্সীর(রা:) পক্ষে ৬০০ দিনার যোগাড় করা কঠিন ছিল। আর ৬০০ দিনার যোগাড় করলেও খেজুর গাছ রোপন করে তাতে ফল ধরে ফল পাকানো অনেক সময়ের ব্যাপার। 

হযরত সালমান ফার্সী(রা:) রাসুল (সঃ) এর দরবারে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসুল (সঃ) ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর হযরত আলী (রাঃ) কে সাথে নিয়ে গেলেন ইয়াহুদীর কাছে। ইহুদী এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তবে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (সঃ) দেখলেন যে, ইহুদীর দেয়া খেজুরগুলো সে আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলছে যাতে চারা না উঠে। 
রাসুল (সঃ) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রাঃ) কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফার্সী(রা:)কে বললেন পানি আনতে। আলী (রাঃ) গর্ত করলে রাসুল (সঃ) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন। আল্লাহর অশেষ মহিমায় সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। 


রাসুল (সঃ) সালমান ফার্সী (রা:)কে এ দির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। 
সালমান ফার্সী (রা:)পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেছে। এই খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। আর কেনইবা দামী হবে না?


যে খেজুর রাসুলের নিজ হাতে রোপন করা।
حديث مرفوع) حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ ، أَخْبَرَنَا هَاشِمٌ ، أَخْبَرَنَا عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنِ اصْطَبَحَ كُلَّ يَوْمٍ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرَّهُ سُمٌّ وَلَا سِحْرٌ ذَلِكَ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ وَقَالَ غَيْرُهُ : سَبْعَ تَمَرَاتٍ ……….আমির ইবনে সাদ রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে, ঐ দিন রাত পর্যন্ত কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেছেন, সাতটি খুরমা। হাদীস নং ৫৩৭৪ 


আলী (র) আমির ইবন সাদ তার পিতা থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ নবী (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে ঐ দিন রাত পর্যন্ত কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না । অন্যান্য বর্ননাকারীগণ বলেছেনঃ সাতটি খুরমা । সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৩৫৬ 
জুমুআ ইবন আব্দুল্লাহ (র)......সাদ (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যাহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না এর দ্বারা।

সুতরাং আজওয়া খেজুরের উপকারীতা হাদিস দ্বারা প্রমানীত তাই রোগের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করতে পারি।

তাছাডা অন্য এক হাদিসে হ্রদ রোগের জন্য এ আজওয়া খেজুর ব্যবহার করতে বলেছেন।


আজওয়া খেজুর সম্পর্কে আরও অবাক করা কিছু তথ্য --

---------------------------------------------------------------------------

*লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখে।


*অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় আজওয়া খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন। প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে।
*ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে।
*প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।


*এতে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কোলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।*এতে রয়েছে ৭৭.৫% কার্বহাইড্রেট, যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করে।*এতে রয়েছে ৬৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৭.৩ মিলিগ্রাম লৌহ – যা হাড়, দাঁত, নখ, ত্বক, চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে।
*স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে।


*আজওয়া খেজুর হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
*হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, লিভার ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক।
*ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
*ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফল দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
*রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
*নারীদের শ্বেতপ্রদর ও শিশুর রিকেট নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা প্রশ্নাতীত।


*পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমায় উপকারী।
*উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাট সম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।
*নেশাগ্রস্তদের অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধ করে আজওয়া খেজুর। স্বাস্থ্য ভালো করতে বাড়িতে তৈরী ঘিয়ে ভাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।


সব চেয়ে বড় কথা হল এ খেজুরের গাছের গুটলি গুলো হুজুর সাঃ নিজ হাতে বপন করেছেন, সে হিসাবে অন্তরে মহব্বত নিয়ে বরকতের জন্য ও খেতে পারেন।আর শেফার নিয়তে তো খেতেই পারেন নিঃসংকোচে। আল্লাহ সহায় হউক।