Sunday, 15 October 2017

মেয়েদের চলাফিরা কথাবার্তায় গাম্ভির্য এবং দৃঢ়তা থাকতে হবে ।এমন কি মেয়েদের কন্ঠস্বরকেও আকর্ষনীয় করা চলবে না।

#নারীদের_উচ্ছৃঙ্খলতা_হারাম 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

জাহেলি যুগের মেয়েদের চরিত্র ছিল উচ্ছৃঙ্খলতা ও পুরুষদের আকর্ষন সৃষ্টির দক্ষতা প্রদর্শন করা।।

আল কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষনা করেন
অর্থ হে নারী তোমরা তোমাদের ঘরে স্থিতি গ্রহন করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের সময়ের মত প্রদর্শন করে বেড়িও না।।
তাফসীরবীদগন এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন
1 মেয়েরা তখন বাইরে বের হয়ে পুরুষদের সংগে পাশাপাশি ও ভিরের মধ্যে চলত।
2 মেয়েরা তখন মাথায় ওড়না রাখত কিন্তু গলার হাড় কানের বালা গলা গ্রীবা উম্মুক্ত থাকতো ।
3 মেয়েরা তখন লীলাময়ী ভঙ্গিতে চলাফেরা করত।।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেছেন
যেসব মেয়ে কাপড় পড়েও উলঙ্গ ,পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট এবং পুরুষদের ও আকৃষ্টকারী তারা জাহান্নামী ,তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের সুঘ্রান ও পাবে না।।
অপর হাদীসের বানী
যে লোক অপর যে জাতীর সাথে সাদৃশ্য রাখবে সে তাদের মধ্যেই গন্য হবে।।

মেয়েদের চলাফিরা কথাবার্তায় গাম্ভির্য এবং দৃঢ়তা থাকতে হবে ।
এমন কি মেয়েদের কন্ঠস্বরকেও আকর্ষনীয় করা চলবে না।---------------------------------
এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা সূরা আহযাবে বলেছেন
অর্থ তোমরা নিন্ম ও নম্র কন্ঠস্বরে কথা বলবে না , বললে অন্তরে রোগ সম্পন্ন ব্যক্তি আকৃষ্ট লালায়িত হয়ে পড়বে।।

মেয়েদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পর্দার সঙ্গে সঙ্গে লুকায়িত সৌন্দর্যের ও পর্দা ফরজ -------------------
এ মর্মে কোরআনের আয়াত দেখুন আল্লাহ তায়ালা বলেন 
অর্থ তোমরা মাটিতে পা শক্তভাবে ফেলে চলবে না কেননা তা হলে যে রুপ সৌন্দর্য অলংকার তারা লুকিয়ে রেখেছে তা পুরুষরা জেনে যাবে।।
এ আয়াতের হুকুমাত অনুযায়ী সাবধানতার লক্ষে মেয়েদের চুরি নুপুর ইত্যাদি আওয়াজের অলংকার বোরখার ভিতরেও পড়া নাজায়েজ হারাম।।

সুগন্ধিও মেয়েদের জন্য হারাম -----------------
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
মেয়েলোক আতর সুগন্ধি মেখে সভা মজলিসে উপস্থিত হলে সে জেনাকারী ।।

কিন্তু মেয়েরা অবরোধবাসী নয়।----------------------------
জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি ভারসাম্যপূর্ন।
এত সকল বিধি নিশেধ মেনে চলে মেয়েদের ঘড় থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে
রাসুল সাঃ উনার বিবি সাওদা রাঃ কে বলেছিলেন
আল্লাহ তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন তোমরা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পার।।




মানসিক চাপ থাকা জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু নি:সন্দেহে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করা ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চাপ কন্ট্রোল করা জরুরি। মানসিক চাপ কন্ট্রোল করার কতিপয় নির্দেশিকা।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১৪টি উপায়
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
------------


১) মানুষের ব্যাপারে খরবদারী করবেন না। কে কী করছে সে বিষয়ে মাথা ঘামানো নিজের মানসিক চাপ বৃদ্ধির একটি কারণ।
আরেকটি সমস্যা হবে, অন্যের বিষয়ে নিয়ে মাথা ঘামালে তখন নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করার মনোভাব সৃষ্টি হবে।
টাকা-পয়সা, সামাজিক অবস্থা, পদমর্যাদা, গাড়ি-বাড়ি অলংকার, পোশাক, সৌন্দর্য ইত্যাদি দিক থেকে তখন মানসিক চাপ অনুভব করবেন।
তাই আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন সেটা নিয়ে খুশি থাকুন আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন তাহলে হৃদয়ে পরম প্রশান্তি অনুভব করবেন ইনশাআল্লাহ।

) আপনার যতটুকু দায়িত্ব ও কর্তব্য ততটুকু পরম আন্তরিকতার সাথে পালন করুন। আপনার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলতে যাবেন না।
অনুরোধে ঢেঁকি গিলবেন না। অন্যথায় আপনাকে অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকতে হবে।]

৩) মানুষের সাথে অতিরিক্ত সম্পর্ক মানসিক চাপের অন্যতম কারণ।
তাই আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, কলিগ, ক্লাসমেট ইত্যাদির সাথে সীমিত সম্পর্ক রাখুন। সম্পর্ক যত ব্যাপক হবে ততই আপনি নানা বাধ্যবাধকতার জালে আটকে যাবেন।

৪) অতিলোভ করবেন না।
অতিলোভী ব্যক্তি অর্থ- কড়ি, ধন-দৌলত, পদমর্যাদা ইত্যাদি বৃদ্ধির চিন্তায় বিভোর থাকে। যদি সামান্য টাকা-পয়সা হাতছাড়া হয় বা চাকুরীর প্রমোশন থেকে বঞ্চিত হয় তবে তার হাহুতাশ দেখে কে?
সুতরাং অল্পে তুষ্টি মানসিক শান্তির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তাকওয়ারও পরিচায়ক।

৫) সাধ্যের বাইরে নিজের অর্থ- সম্পদ, আরাম-আয়েশ উজাড় করে দিবেন না। 
যারা কৃত্রিমভাবে নিজের সব কিছুকে উৎসর্গ করে দেয় তারা তাদের কথা-বার্তা ও আচরণে মানুষের ধন্যবাদ ও প্রশংসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু যদি তা না পায় তখন তার মানসিক অস্থিরতা ও টেনশন বেড়ে যায়।

৬) আজকের দিনটিকে ভালভাবে উপভোগ করুন। আগামী কাল কী হবে সেটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন। ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি আল্লাহর দেয়া নেয়ামত স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করুন। আগামীর চিন্তায় অস্থির হয়ে মানসিক চাপ বৃদ্ধি করবেন না।

৭) প্রতিদিন একান্ত নির্জনে কিছু সময় কাটান। এ সময় দুনিয়ার কারও সাথে সম্পর্ক রাখবেন না। বিশেষ ইন্টারনেট তথা হোয়াটসএ্যাপ, ফেসবুক ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।
এ সময় আত্মসমালোচনা করুনআর আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। তাহলে দেখবেন, মহান আল্লাহ আপনার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

৮) জ্ঞানীদের জীবনী পড়ুন, তাদের উপদেশ ও মূল্যবান বাণীগুলো পড়ুন তাহলে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও উপদেশ দুনিয়ার জীবনে আপনার চলার পথকে সহজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ।

৯) জীবনে যত বিপদ ও সমস্যাই আসুক না কেন-যেমন, আর্থিক ক্ষতি, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, অসুখ-বিসুখ ইত্যাদি) এগুলো নিয়ে খুব বেশী দু:শ্চিন্তা করবেন না।
বরং সহজভাবে মেনে নিন।
মনে রাখুন, মহান আল্লাহর লিখিত তাকদিরে বাইরে কিছুই ঘটে না।
বিপদাপদেই হয়ত কল্যাণ রয়েছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় না। কিন্তু আল্লাহ নিশ্চয় হেকমত ছাড়া কিছুই করেন না।

১০) সব কিছুই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন না। মানুষের প্রতিটি কথা বা কাজ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা ঠিক নয়। সব কিছু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা ঠিক নয়। বরং মনে আনন্দ বজায় রাখুন, মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাতে হাসতে শিখুন। আপনার কথা ও আচরণে যেন ফুলের সুঘ্রাণ বের হয়।
তাহলে ইনশাআল্লাহ মন ফ্রেশ থাকবে আর মানসিক চাপ কমে যাবে ইনশাআল্লাহ।

১১) শরীরকে তার হক দিন। প্রয়োজনীয় খাবার, ঘুম, বিশ্রাম গ্রহণ জরুরি।

২) দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লিস্ট তৈরি করে আগেরটা আগে পরেরটা পরে করুন। তবে তা করতে গিয়ে নিজেকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিবেন না। 
মনে রাখবেন অগোছালো কার্যক্রম মানসিক অস্থিরতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ তৈরি করে।

১৩) প্রতিটি কাজ ১০০ পার্সেন্ট নির্ভুল করতে হবে এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে হবে।
কেননা, পূর্ণাঙ্গতার গুণ কেবল মাত্র আল্লাহর। যারা সব কাজ নির্ভুল করার চিন্তায় থাকে চতুর্দিক থেকে দু:শ্চিন্তা, টেনশন,অস্থিরতা ঘিরে ধরে। ফলে মানসিক চাপ চরম আকার ধারণ করে।

১৪) নিশ্চিত থাকুন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যত গভীর হবে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কাজ তার জন্য সহজ হবে।
আল্লাহ ভীতি, নামায, সকাল সন্ধ্যার দুয়া ও যিকির, নেকীর কাজ, মানুষের কল্যাণে কাজ করা ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মনে অফুরন্ত প্রশান্তি বর্ষণ করেন, সমস্যা দূরভিত করেন আর তখন জীবন হয়ে উঠে আরও প্রাণবন্ত, স্বচ্ছন্দয় ও আল্লাহর ভালবাসায় স্নিগ্ধ।
আল্লাহ সকলকে তাওফিক দান করুন।
------

Saturday, 7 October 2017

চিন্তা না করে কথা বলিও না কখনো দেরী ভাল তবু পশু হবে না কখনো।। অর্থাত্‍ কথা প্রথমে মনে উদয় হতে দাও পড়ে মুখে বল , যখন মনে উদয় হবে তখন একটু চিন্তা করবে ঐ কথা দ্বারা আল্লাহ নারাজ হবে নাতো ? যদি আল্লাহর নারাজ হওয়ার বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকে তবে বলিবে না ।।

জবান_কে_হেফাজত_করুন

---


আল্লাহ পাক সূরা ইসরাঈলে ইরশাদ করেন------------
অর্থ আমার বান্দাদেরকে যা উত্তম তা বলতে বলো । শয়তান তাদের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টির উস্কানি দেয় । শয়তান তাদের প্রকাশ্য শত্রু ।।


কথা বলতে গিয়ে বেখায়ালে যে সব গুনাহের কথা মুখ দিয়ে বের হয় তা খেয়াল করে ত্যাগ না করা অতি গুনাহের কাজ।।
যেমন অনেকে প্রায় বলে উপরে আল্লাহ নীচে আপনি
এটা স্পস্ট শিরক।।
অথবা বলে থাকে বড় খারাপ জামানা আসিয়াছে, কিন্তু হাদিসে জামানাকে খারাপ বলা কঠোর নিষেধ আছে।।
ইত্যাদি 

আরো কতিপয় জবানের গোনাহ বুজর্গানে দ্বীন বিভিন্ন হাদিস থেকে সংগ্রহ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করছি,,-------------------------------

1 যে কথা দুনিয়া আখিরাতে কোন লাভ নাই
2 আবশ্যক অপেক্ষা বেশি কথা
3 অনর্থক গল্প করা পরচর্চ মূলক কথা
4 অনর্থক তর্ক করা
5 ঝগড়া কলহ করা
6 নিজের বড়াই দেখানোর জন্য অতিরন্জিত করে কিছু বলা
7 গালাগালি করা
8 কর্কশ ভাষায় বা কাউকে শক্ত কথা বলা
9 কাউকে লানত করা
10 শরীয়তের বরখেলাফ গীত গাওয়া গান করা
11 বেশি হাসি তামাশা করা
12 ঠাট্টা বিদ্রুপ করা
13 কারো গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়া
14 মিথ্যা ওয়াদা করা
15 মিথ্যা কথা বলা
16 গীবত করা তথা অন্যের আড়ালে এমন কথা বলা যা সত্য হলেও শুনলে সে কষ্ট পাবে ।
আর যদি তা তা মিথ্যা হয় তা আরো ভয়াবহ পাপ ।
17চোগলখুরী করা তথা একজনের বিরুদ্ধে অন্যকে রাগিয়ে তোলা ,
18 হক না হক বিচার না করিয়া সমাজের প্রচলন অনুযায়ী কথা বলা ।
19 কারো সামনে তার তারিফ করা ।।


জবান দ্বারা
এতসব গোনাহ থেকে বেচে থাকার সহজ পন্থাও বুজুর্গানে দ্বীন বলে দিয়েছেন ---------------------------

চিন্তা না করে কথা বলিও না কখনো
দেরী ভাল তবু পশু হবে না কখনো।।
অর্থাত্‍ কথা প্রথমে মনে উদয় হতে দাও পড়ে মুখে বল , যখন মনে উদয় হবে তখন একটু চিন্তা করবে ঐ কথা দ্বারা আল্লাহ নারাজ হবে নাতো ?
যদি আল্লাহর নারাজ হওয়ার বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকে তবে বলিবে না ।।
এভাবে জবান দ্বারা বড় বড় পাপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।।

উল্লেখ্য যে,, ইমাম গাজ্জালি রাহঃ উনার এহইয়াওল উলুম কিতাবে জবানের দ্বারা সংঘটিত পাপ সমূহ এবং শাস্তির বিধান কোরআন হাদিসের দলিল সহ বিস্তারিত বর্ননা দেয়া আছে।। প্রত্যেকের তা জানা আমল করা একান্ত জরুরী।।

Friday, 6 October 2017

কারো উপর জাদু টোনা করা হলে তার লক্ষণ ও প্রতিকার -------আল কোরআনের চিকিৎসা

যাদু টোনা করে বিয়ে বন্ধ করে রাখা যায়... যাদু টোনার চিকিৎসায় বিখ্যাত শায়েখ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম বালী বলেন যে_  বিয়ে না হওয়ার বান বা যাদু টোনা করার কিছু লক্ষণ হলো-

 ১-বিভিন্ন সময়ে মাথা ব্যাথা হওয়া যার চিকিৎসা কোন ঔষধ এ হয়না। 
২-মানষিক অশান্তি বিশেষ করে আসর এর পর হতে অর্ধ রাত পর্যন্ত। 
৩-বিয়ের প্রস্তাব কারীকে খুব খারাপ মনে হওয়া। 
৪-সর্বদাই মস্তিষ্কে অশান্তি বিরাজ করা। 
৫- ঘুমের মাঝে স্বস্তি না পাওয়া। 
৬-পেটে সর্বদাই ব্যাথা অনুভব করা। 
৭- পীঠের নিন্মাংশের জোড়ে ব্যাথা অনুভব হওয়া। 

এই যাদুর চিকিৎসা -

 ১-  ৫ ওয়াক্ত নামাজ সুন্দরভাবে পড়তে হবে ঠিকমত। 
২-গান বাজনা টিভি দেখা হতে বিরত থাকতে হবে। 
৩- ঠিকভাবে পর্দা করবে। 
৪-শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়বে। সুরা এখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে তা সারা শরীরে বুলাবে। (এভাবে তিনবার করবে) 
৫- আয়াতুল কুরসি ও সুরা নাস,ফালাক, ও ইখলাস এর তিলাওয়াত আলাদা করে এক ঘন্টা শুনবে প্রতিদিন। 
৬- এক বালতি পানি তা এমন পরিমাণ হওয়া চাই যা দ্বারা গোসল করা সম্ভব হয়। এরপর উক্ত পানিতে কুরআনের এ আয়াতগুলো পড়ে ফুঁক দিবে: আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা আরাফের (১১৭ থেকে ১২২) নং আয়াত, সূরা ইউনুসের (৭৯ থেকে ৮২) নং আয়াত এবং সূরা ত্বহার (৬৫ থেকে ৭০) নং আয়াত। তারপর উক্ত পানি থেকে কিছু পানি যাদু আক্রান্ত মেয়ে পান করবে এবং অবশিষ্ট দিয়ে গোসল করবে। ইনশাআল্লাহ এদ্বারা যাদু কেটে যাবে। এরুপতিনদিন করবে। 

৭-  ঝাড়ফুঁক এর  আয়াত সমূহ এর তেলাওয়াত ও এক ঘন্টা শুনবে প্রতিদিন। অর্থাৎ প্রতিদিন কম পক্ষে দুই ঘন্টা মনোযোগ দিয়ে রুকয়াশুনবে। -সূরা ফাতিহা। -সূরা বাকারা ১-৫ -সূরা বাকারা ২৮৪-২৮৬ -আরাফ ৫৪-৫৬ -ইউনূস ৮১-৮২ -জ্বীন ১-৯। 

৮- প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অবশ্য ই একশত বার পড়বে, (অথবা অন্তত দশ বার পড়তেই হবে
 ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ، ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ 
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান) 
উচ্চারণ - লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর 
[বুখারী, নং ৩২৯৩; মুসলিম, ৪/২০৭১] 

সবনিয়ম অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ যাদু টোনা নস্ট হয়ে যাবে......'

Thursday, 5 October 2017

একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন আরব মায়ের পরামর্শ সন্তানকে খাস পর্দায় অভ্যস্ত করতে!! পর্দে মে রাহনে দো!


-চট করে দ্বীন পালন শুরু করা বেশ কঠিন। ছোটবেলা থেকে দ্বীনদারি-চর্চায় অভ্যস্ত করে তুলতে না পারলে, বড় হলে রাগারাগি করে সন্তানকে দ্বীনদার বানানো প্রায় অসম্ভব কাজ!
হাঁ সন্তান নিজ থেকে আগ্রহী হলে, ভিন্ন কথা!


কন্যাকে পর্দায় অভ্যস্ত করে তুলতে হলেও সেই ছোট বেলা থেকেই মেহনত শুরু করা আবশ্যক।
তিন থেকে পাঁচ বছর বয়েস থেকে শুরু হওয়াই যুক্তিযুক্ত!
কারণ এই বয়েসেই সন্তান মা-বাবা ও আশেপাশের অনুকরণ করতে শুরু করে।


আমরা একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন আরব মায়ের পরামর্শগুলো খতিয়ে দেখতে পারি।
তিনি তার চারকন্যাকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেনঃ-

:

(এক) বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময়, মেয়েকে দেখিয়ে দেখিয়ে বোরকা পরা।
মেয়ের জন্যে বোরকাধর্মী পোশাক বানানো।
যতটা সম্ভব ছোট্ট মামণিকেই নিজের বিশেষ পোষাক পরতে দেয়া।
না পারলে আম্মু বা বড় আপু হাত লাগাবে!
-

(দুই) মেয়েকে দায়িত্ব দেয়া:
-আম্মু! আমি বোরকা পরার পর, আমার চুল বাইরে থেকে দেখা যায় কি না, একটু ভাল করে দেখো তো!
চারপাশ চক্কর দাও!
আমি যখনই বোরকা পরবো, তুমি দেখবে, কোনও অংশ বোরকার বাইরে থেকে গেলো কি না!

-
(তিন) মেয়েকে বলে দেয়া: ঘরে গাইরে মাহরাম কেউ এলে, যাদের সাথে বিয়ে বৈধ! ছোট্ট বয়েসে এতটা বুঝবে না, নাম ধরে বলে দেয়া অমুক এলে, তুমি আমাকে আগেই বলে দিবে, কে এসেছে!
তাহলে আমি সতর্ক হতে পারবো!

-

(চার) যখন থেকে মেয়ে নিজে নিজে পোষাক পড়তে অভ্যস্ত হবে, তখনই বলে দেয়া:
-তুমি যখন পোষাক পরবে, তার আগে রূমের দরজা বন্ধ করে দিবে!
খোলা স্থানে কখনোই পোষাক পরিবর্তন করবে না।
-

(পাঁচ) ছেলে বা মেয়ে কাউকে যদি এভাবে তোমার সামনে পোষাক বদলাতে দেখো, তুমি সেখানে থেকে উঠে চলে আসবে। সবাই লাজুক নয়, শালীন নয়।
সে লজ্জা না পেলেও তুমি অবশ্যই লজ্জাবোধ করবে! শুধু নিজের শরীর দেখানো নয়, অন্যের শরীর দেখাও হারাম!
-

(ছয়) মায়ের দায়িত্ব হলো, মেয়েকে বলে দেয়া: আশেপাশের ছেলেদের সাথে প্রয়োজনের বেশি কথা না বলা।
যা বলার আব্বু-আম্মু বা ভাইয়াকে বলা।
পাশের বাসা বা প্রতিবেশির ছেলে ছোট হলেও মেয়েদের সাথে থাকতে অভ্যস্ত করে তোলা!
-

(সাত) মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই কুরআন কারীমের কিছু কিছু অংশ মুখস্থ করিয়ে দেয়া।
বিশেষ করে পর্দার আয়াতগুলো পড়ে শোনানো।
না বুঝলেও কুরআনের শব্দেরও অনিবর্চনীয় একটা শক্তি আছে।
ক্রমে ক্রমে আয়াতগুলোর অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যেই এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন!
তিনি তার এই ছ্ট্টো বান্দীটির কাছে কী চাচ্ছেন!
কুরআন কারীমের বরকতেই তার মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে!
পর্দা করা যে সরাসরি আল্লাহরই ইচ্ছা, সেটা বুঝতে শিখতে শুরু করবে!
-

(আট) সবচেয়ে ভাল হয়, মেয়েকে নিয়মিত কুরআন হিফয করতে অভ্যস্ত করে তোলা। এবং তাকে এর গুরুত্ব বোঝাতে শুরু করা। গল্পের মতো করে!
তার বয়েসের উপযোগী ঢঙে।
বারবার বলা: যার মধ্যে কুরআন কারীম আছে, তাকে পর্দা করে চলতে হয়। না হলে কুরআনের অপমান হয়।
আল্লাহ ও তার রাসূল নারাজ হন!

-
(নয়) সময় করে করে, দ্বীনী পরিবারগুলোতে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া। যারা দ্বীনকে তাকওয়ার মানদন্ডে মেনে চলার চেষ্টা করেন।
এই দ্বীনদার পরিবারগুলোতে কিছু মুরুব্বী থাকেন।
যারা দ্বীনকে মানতে মানতে স্বভাবে পরিণত করেছেন, তাদের সাথে নিজের কন্যাকে কিছু সময় কাটাতে দেয়া।
তাদের সাথে গল্প করতে দেয়া।
তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দেয়া।

-
(দশ) তবে খেয়াল রাখা, এসব করতে গিয়ে, মা বা বাবা যেন কখনোই কঠোরতার আশ্রয় না নেন।
তাহলে নিজের ভুলের কারণে মেয়েটা দ্বীন সম্পর্কে ভুল ধারনা নিয়ে বড় হতে পারে।
-

(এগার) সেই ছোট্টবেলা থেকেই ,মেয়ের জন্যে আলাদা একটা কুরআন কারীমের ব্যবস্থা করা।
কুরআন কারীমের আদব শিক্ষা দেয়া।
পর্দার আয়াতগুলো চিহ্নিত করে দেয়া।
মাঝেমধ্যে যেন নিজে নিজেই আয়াতগুলো পড়ে।
অর্থ আর তাফসীরও কিনে দেয়া।
এতে কুরআনের সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
পাশাপাশি দ্বীনের বিধান সরাসরি কুরআন থেকে গ্রহণ করার একটা মানসিকতা গড়ে উঠবে।

-

(বারো) মেয়ে যদি পুতুলখেলায় অভ্যস্ত হয়, সেই পুতুলকেও বোরকা পরিয়ে রাখা। কারণ বাজারে যেসব পুতুল পাওয়া যায়, প্রায় সবগুলোই পাশ্চাত্যের ঢঙে সংক্ষিপ্ত পোষাক পরানো থাকে।
এগুলো দেখে দেখে মেয়ের মনে, পোষাক নিয়ে ছাড়াছাড়ির মনোভাব তৈরী হতে পারে।
তাই তাকে বলে দেয়া: তোমার পুতুল বন্ধুকেও বোরকা পরিয়ে রাখো।
প্রথম প্রথম মা-ই পুতুলকে শালীন পোষাক পরাবে!
পরে মেয়েকে দায়িত্ব দিবে। তাহলে সে বুঝতে শিখবে, পুতুলের পোষাক বা চুলটা এভাবে রাখা ঠিক নয়।
এমন পোষাক ও বেশভূষাকে অজান্তেই অপছন্দ করতে শিখবে!
-

(তেরো) কুরআন কারীমের পাশাপাশি হাদীস শরীফও পড়তে শেখানো।
অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
পর্দাবিষয়ক হাদীসগুলো।
সামান্য ব্যখ্যাও সম্ভব হলে বলে দেয়া।
তার বুঝের স্তরের দিকে লক্ষ্য রেখে!
কারণ মায়ের কথার চেয়ে, নবীজি সা. এর কথার প্রভাব অনেক অনেক বেশি!

-
(চৌদ্দ) বুযুর্গ মহিলাদের জীবনী তার সামনে তুলে ধরা।
উম্মাহাতুল মুমিনীন, নবীজির স্ত্রীগনের জীবনী তাকে গল্পচ্ছলে শুনিয়ে দেয়া।
তার কাছ থেকেই গল্প শোনার বায়না ধরা:
-আম্মু! আমি তো সবসময়ই বলি, আজ তুমি একটা গল্প শোনাও!
ঐ যে আয়েশা রা. এর গল্প বলেছিলাম, সেটাই আমাদেরকে আজ শোনাও!
-

এভাবে মেহনত করলে, ইনশাআল্লাহ, মামণিরা খাসপর্দায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! পরিবারে তাকওয়া-পরহেযগারির পরিবেশ গড়ে উঠবে!.

আতিকউল্লাহ from

Wednesday, 4 October 2017

সব যোগ্য ব্যক্তিই আদর্শ নন! আবার অনেক আদর্শ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্বও গভীর ইলমের অধিকারী নন! তবে যে বিষয়ে তাকে আদর্শ মানবো, সে একটা বিষয়ে তিনি পারদর্শী কি না, সেটা দেখা জরুরী! সেটা পাওয়া গেলেই হয়েছে।

1: কুরআন হাদীস সম্পর্কে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করলে, একজন মানুষকে আমরা সাধারণত আলিম বলি। এ-হিশেবে বর্তমানে অসংখ্য যোগ্য ব্যক্তি আছে। 

তবে যোগ্যতা এক জিনিস, আদর্শ আরেক জিনিস। 


২. উম্মাহর ইতিহাসে, কুরআন কারীমকে অনেক গভীরে গিয়ে ভালভাবে বুঝেছেন, এমন একজন হলেন, আল্লামা যামাখশারী রহ.। তিনি এতবড় আলিম কিন্তু আমাদের আদর্শ নন!


৩. উদাহরণ টানা যাক,
-বর্তমান বিশে^ শায়খ ইউসুফ কারদাবিকে অন্যতম বড় আলিম মনে করা হয়! কিন্তু সব বিষয়ে চোখ বন্ধ করে তাকে কি আদর্শ মানা যায়? যায় না!


৪. উপমহাদেশে মাওলানা তাকি উসমানি দা বা-কে অন্যতম বড় আলেম মনে করা হয়! কিন্তু ইসলামী ব্যাংকিং ও আরও কিছু প্রশ্নে ওনার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, এমন অসংখ্য জাইয়্যেদ আলেম আছেন।



কেউ ইলমে আমলে তার সময়ের বাকি দশজনের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাই বলে তিনি আদর্শ হবেন, এমন নাও হতে পারে!

সব যোগ্য ব্যক্তিই আদর্শ নন! আবার অনেক আদর্শ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্বও গভীর ইলমের অধিকারী নন! তবে যে বিষয়ে তাকে আদর্শ মানবো, সে একটা বিষয়ে তিনি পারদর্শী কি না, সেটা দেখা জরুরী! সেটা পাওয়া গেলেই হয়েছে।
=মোটকথা, ইলম আর আদর্শ সব সময় এক জায়গায় জমা হয়, বিষয়টা এমন নয়। যদি ইলম আদর্শ এক পাত্রে মিলে যায়, সোনায় সোহাগা!

Atik ullah

Monday, 2 October 2017

ধৈর্যের অনুশীলন করার কিছু উত্তম পন্থা বুজুর্গানে দ্বীন বলে দিয়েছেন । তার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ-


#ধৈর্যের_মহত্ব


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন
"ইন্নাল্লাহা মায়াস সাবিরিন"
অর্থ যারা সবর করে আল্লাহ তায়ালা তাহাদের সাথে আছেন।।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেন
"আসসাবরু নিছফুল ঈমান"
অর্থ ছবর ঈমানের অর্ধেক।।

#ধৈর্যের অনুশীলন করার কিছু উত্তম পন্থা বুজুর্গানে দ্বীন বলে দিয়েছেন ।
তার সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করছি--

1 আপন প্রবৃত্তি ও ভাবাবেগ কে সংযত রাখা
2 তাড়াহুড়া ভয় ভীতি ও উত্‍কন্ঠা থেকে মুক্ত থাকা।
3 কোন প্রলভন বা অসঙ্গত উত্‍সাহকে প্রশ্রয় না দেয়া ।
4 শান্ত মন ও সুচিন্তিত ফয়সালার ভিত্তিতে সকল কাজ সম্পাদন করা ।
5 বিপদ মুসিবতে দৃঢ় পদে তার মুকাবিলা করা ।
অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও আতঙ্ক বা অস্থিরতায় মনোবল হারানো চলবে না ।
6 উত্তেজনা ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোন অন্যায় কাজ না করা ।
7 লক্ষ অর্জনে আগ্রাহাতিশয্যে কোন অসঙ্গত পন্থা অবলম্বন করা যাবে না ।
8 পার্থিব স্বার্থ ও প্রবৃত্তির তারনায় নিজের মন কামনা বাসনাতে আচ্ছন্ন করা এবং এ সবের মুকাবিলায় দুর্বলতা প্রদর্শন করে কোন স্বার্থের হাতছানিতে আকৃষ্ট হওয়া অধৈর্যের লক্ষন

সুতরাং এ সব থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলে জীবনকে স্বাভাবিক সুন্দর রাখা সম্ভব।।