Sunday, 24 June 2018

শিরকের প্রকার বলা হলেও, ফাঁকে ফাঁকে শিরকের বিপরীতে ‘তাওহীদের প্রকারও এসে যাবে। বিপরীতটা বললে, বুঝতে সুবিধা হয়। যেমন আলোর মাহাত্ম্য বুঝতে হলে, আঁধার সম্পর্কে জানা থাকা জরুরী ... mufti atik ullah



আল্লাহর প্রতি উপাস্য ইবাদাত-------------------------

ইলাহ (إله) শব্দের অর্থ মাবূদ (معبود)। উপাস্য। যার ইবাদত করা হয়। ইবাদত কাকে বলে? আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ.-এর ভাষায়,
العِبادَةُ عِبارَةٌ عنِ الاِعْتِقادِ والشُّعُورِ بِأَنَّ لِلْمَعْبُودِ سَلْطَةً غَيْبِيَّةً (أَيْ في العِلْمِ والتَّصَرُّف) فَوْقَ الأسبابِ يَقْدِرُ بها على النفعِ والضررِ فكُلُّ دعاءٍ ونداءٍ وثناءٍ وتعظيمٍ يَنشَأُ من هذا الاعتِقاد فهي عبادة
জাগতিক কোনও মাধ্যম ছাড়া, (জ্ঞান ও কার্যত) উপকার ও ক্ষতি করার অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী, এমন দৃঢ় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশকেই ইবাদত বলা হয়। এমন বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত দু‘আ, আহ্বান, প্রশংসা, সম্মান এমন বিশ্বাসকেই ইবাদত বলা হয়। 
.
উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কৃত সুনির্দিষ্ট আচরণ/উচ্চারণ আল্লাহ জন্যে হলে, তাকে ইবাদত বলা হবে, গাইরুল্লাহর জন্যে হলে, শিরক বলা হবে।

_________________________________

গায়রুল্লাহ র প্রতি উপাস্য শিরক-------------------- 



শিরকের প্রকার!

(শিরকের প্রকার বলা হলেও, ফাঁকে ফাঁকে শিরকের বিপরীতে ‘তাওহীদের প্রকারও এসে যাবে। বিপরীতটা বললে, বুঝতে সুবিধা হয়। যেমন আলোর মাহাত্ম্য বুঝতে হলে, আঁধার সম্পর্কে জানা থাকা জরুরী)। 
-

শিরক দুই প্রকার,

১: আকীদাগত শিরক (شِرْكِ اعتقادي)। 

আল্লাহর বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা গাইরুল্লাহর জন্যেও সাব্যস্ত করা। 
আকীদাগত শিরক তিন প্রকার,

ক: জ্ঞানগত শিরক (شرك في العلم)। 
গাইরুল্লাহকে উপায়-উপকরণ ছাড়া (ما فوق الأسباب) খবরাখবর সম্পর্কে পূর্ণ অবগত মনে করা। তবে যদি উপায়-উপকরণ (مع الأسباب)-এর মাধ্যমে খবরাখবর অবগত থাকার বিশ্বাস করে, তাহলে শিরক হবে না। 
.

খ: কর্মক্ষমতাগত শিরক (شرك في التصرف)। 
উপায়-উপকরণ ছাড়া (ما فوق الأسباب) গাইরুল্লাহকে কর্মক্ষমতার অধিকারী বিশ্বাস করা। উপায়-উপকরণ (مع الأسباب)-এর মাধ্যমে কর্মক্ষমতার অধিকারী বিশ্বাস করলে, শিরক হবে না। 
ঈসা আ. বলেছিলেন,
مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ ۖ 
কে কে আছে, যারা আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী হবে’? (আলে ইমরান ৫২)। 
.
তিনি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রেখে, বান্দার দুর্বলতা স্মরণে রেখেই, হাওয়ারী (সহচর)-দের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। এটা শিরক নয়। 

.
গ: প্রার্থনাগত শিরক (شرك في الدعاء)। 
প্রথমোক্ত দু’টি ক্ষমতার অধিকারী বিশ্বাস করে গাইরুল্লাহর কাছে গায়েবীভাবে (উপস্থিত না থেকে) কোনও কিছুর প্রার্থনা করা। উক্ত আকীদা পোষণ করে, উপস্থিত থেকে কোনও কিছু প্রার্থনা করলেও শিরক হবে।
.

২: কর্মগত শিরক (شركِ فِعْلِيْ)। 

প্রথমোক্ত দুটি বিশ্বাস পোষণ করে, গাইরুল্লাহর জন্যে ‘নযর-মান্নত’ করা। গাইরুল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নিজের জন্যে কোনও হালাল বস্তুকে হারাম করে নেয়া। 
.
কর্মগত শিরক চার প্রকার
ক: আল্লাহর জন্যে নযর (نَيازَاتُ الله)। 
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নযর-মানত করা। যেমন আকীকা, কুরবানি ইত্যাদি। 
আল্লাহ তা‘আলা নবীজি সা.-কে হুকুম করেছেন,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
সুতরাং আপনি নিজ প্রতিপালকের (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্যে নামায পড়ুন ও কুরবানি দিন (কাওসার ২)। 
.
আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং তার জন্যে পশু কুরবানি করার আদেশ করেছেন।
.
হুকুম: 
এটা তাওহীদের অন্তুর্ভুক্ত। শতভাগ হালাল। 
প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে শিরকের প্রকারের মধ্যে এর আলোচনা এল কি করে? 
- বাহ্যিক সাদৃশ্যের (مُشاكَلَةً) কারণে এমনটা করা হয়েছে। নযর মানতের সাদৃশ্য। 

.
খ: গাইরুল্লাহর জন্যে নযর-নিয়ায করা (نِيازات غير الله)। 
গাইরুল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নযর-নিয়ায করা। 
وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۖ 
এবং (আল্লাহ সেই সব পশু হারাম করেছেন) যাতে (যবেহ করার সময়) আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম নেওয়া হয়েছে (নাহল ১১৫)। 
.
وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ
এবং সেই সব জন্তুও (হারাম), যাকে (প্রতিমার জন্যে) নিবেদনস্থলে (বেদীতে) বলি দেওয়া হয় (মায়েদা ৩)। 
.
হুকুম:
এমন করা সুষ্পষ্ট শিরক। হারাম। 
.

গ: আল্লাহর জন্যে হারাম করে নেয়া (تَحْرِيماتُ الله)। 
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে, আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হারামকৃত কোনও বস্তুকে নিজের জন্যে হারাম সাব্যস্ত করে নেয়া। 
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত (মায়েদা ৩)। 
.
হুকুম: 
এটাও তাওহীদ। হারামকৃত বস্তুগুলো তার জন্যে হারাম। 
.

ঘ: গাইরুল্লাহর জন্যে হারাম করা (تَحْرِيْماتِ غير الله)। 
গাইরুল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হালাল বস্তুকে নিজের উপর হারাম সাব্যস্ত করে নেয়া। 
أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ
مائدة ১
مَا جَعَلَ اللَّهُ مِن بَحِيرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيلَةٍ وَلَا حَامٍ ۙ وَلَٰكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۖ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
مائدة ১০৩
তোমাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে চতুষ্পদ গবাদি পশু (ও তদ্সদৃশ জন্তু) মায়িদা-১। 
আল্লাহ তা‘আলা এসব জন্তুকে হালাল করেছেন। গাইরুল্লাহকে খুশি করার জন্যে এসবকে হারাম সাব্যস্ত করা যাবে না। 
.
আল্লাহ কোনও প্রাণীকে না বাহীরা সাব্যস্ত করেছেন, না সাইবা, না ওয়াসীলা ও না হামী, কিন্তু যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে, তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে এবং তাদের অধিকাংশেই সঠিক বোঝে না (মায়িদা ১০৩)। 
১: বাহীরা, কান চিড়ে দেব-দেবীর নামে উৎসর্গকৃত প্রাণী। 
২: সাইবা, দেব-দেবীর নামে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া প্রাণী। 
৩: ওয়াসীলা, পরপর কয়েকটি মাদী বাচ্চা জন্ম দেয়ার কারণে, অতি মূল্যবাণ মনে করে, দেব-দেবীর নামে ছেড়ে দেয়া উটনী। 
৪: হামী, নির্দিষ্ট পরিমাণে পাল নেয়ার পর প্রতিমার নামে ছেড়ে দেয়া উট। 
.
হুকুম: 
এমনটা করা শিরক। তবে বস্তুগুলো হালাল। 

.

কুরআন করীমের হালাল, হারাম ও শিরক বিষয়ক প্রায় সমস্ত আয়াত এই ‘কানুনের’ আওতায় চলে আসবে।




Saturday, 23 June 2018

তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে- তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে !!

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে ;

আমি বাইব না --------

আমি বাইবো না মোর খেয়া তরি এই ঘাটে –

চুকিয়ে দেব বেচা- কেনা     

     মিটিয়ে দেবো গো

মিটিয়ে দেব লেনাদেনা – 

বন্ধ হবে আনা গোনা  এই হাটে !

তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

তারার পানে চেয়ে চেয়ে -নাইবা আমায় ডাকলে !!


 যখন জমবে ধূলা তানপুরাটার তার গুলায়

কাঁটা লতায় –

কাঁটা লতায় উঠবে ঘরের দ্বার গুলায়

আহা--! জমবে ধূলা তানপুরাটার তার গুলায় !

ফুলের বাগান ---- 

ঘন ঘাসের পড়বে শয্যা বনবাসে !

শেওলা এসে ভিড়বে দীঘির ধার গুলায় !

 তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

 তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে !!




তখন এমনি করে বাজবে বাঁশি এই  নাঁটে !

কাটবে ---- দিন কাটবে -----!!

কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে !!

আহা-!  এমনি করে বাজবে বাঁশি এই নাঁটে !

ঘাঁটে ঘাঁটে খেয়া তরি এমনি

এমনি সেদিন উঠবে ভরি ; চড়বে গরু ; 

         খেলবে রাখাল  এই মাঠে !

তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে

তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আমায় ডাকলে !!


তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি

সকল খেলায় ---------

সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি

আহা--! কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি !!

নতুন নামে ডাকবে মোরে – বাঁধবে 

বাঁধবে নতুন বাহু ডোরে

আসব যাবো চিরদিনের সেই আমি !!

তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে !!

FS--------


কলবকে ঈমানের সাথে সুদৃঢ় রাখা। কলবের মধ্যে ঈমানকে বসিয়ে দেয়া। এই মূলনীতিটা ‘মোহরে জাব্বারিয়্যতের’ সম্পূর্ণ বিপরীত। mufti atik ullah


কুরআন বোঝার মূলনীতি: ১৪রাবতুল কুলূব (رَبْطُ القُلُوب)। -


আগেরটার সম্পর্ক কুফরের সাথে। এটার সম্পর্ক ঈমানের সাথে। 
আগেরটা কাফেরের অবস্থা বর্ণনা করেছে। এটা মুমিনের অবস্থা বর্ণনা করছে। 
বান্দা কুফরের পথ ধরলে যেমন চূড়ান্ত পর্যায়ে তাকে কুফরের উপরই স্থিত করে দেন, তদ্রুপ  বান্দা হেদায়াতের পথ গ্রহণ করলে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে হেদায়াত দান করেন। 
তারপর তাকে অবিচলতা (اِسْتِقامة) দান করেন। দ্বীনের ক্ষেত্রে পক্কতা (رُسُوخْ في الدين) দান করেন। 
এই মূলনীতির মাধ্যমেও কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
.


প্রথম আপত্তি:----------------------------
বদর যুদ্ধে অংশ নেয়া সাহাবীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলার ছাড়পত্র,
اعملوا ما شئتم، فقد وجبت لكم الجنة
তোমরা যা ইচ্ছা করো, তোমাদের জন্যে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে (আলি বিন আবি তালেব রা। বুখারি ৬২৫৯)। 
.

দ্বিতীয় আপত্তি:---------------------------
তাবুক যুদ্ধের আগে, সবাইকে সাধ্যানুযায়ী দান করতে বলা হল। সাহাবায়ে কেরাম যার যার সাধ্যানুযায়ী দান করেছেন। কিন্তু উসমান রা. সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন। তাঁর দানের পরিমাণ ছিল বিপুল। নবীজি সা. উসমান রা.-এর দান পেয়ে ভীষণ খুশি হলেন। বারবার বলতে লাগলেন,
ما ضَرَّعثمانَ ما عَمِلَ بعدَ اليومِ
আজকের পর, উসমান যাই করবে, (আখেরাতে) তার কোনও ক্ষতি হবে না (আবদুর রহমান বিন সামুরাহ রা.। তিরমিযী ৩৭০১)। 

.
তৃতীয় আপত্তি:---------------------------
হাদীসের বাহ্যিক অর্থটা ধরলে আপত্তি জাগে। 
وما يزالُ عبدي يتقرَّبُ إليَّ بالنَّوافلِ حتَّى أُحبَّه، فإذا أحببتُه: كنتُ سمعَه الَّذي يسمَعُ به، وبصرَه الَّذي يُبصِرُ به، ويدَه الَّتي يبطِشُ بها، ورِجلَه الَّتي يمشي بها،
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে করতে এমন স্তরে উন্নীত হয়, আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, আমিই তার ‘শ্রবণশক্তি’ হয়ে যাই। সে তা দ্বারা শোনে। আমি তার দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই। সে তা দ্বারা দেখে। আমি তার হাতে পরিণত হই। সে তা দ্বারা অনিষ্ট প্রতিহত করে। আমি তার পদে পরিণত হই। সে তা দ্বারা হাঁটে (আবু হুরায়রা রা.। বুখারী ৩৫০৬)। 
.
এসব হাদীস দেখলে মনে হয়, বদরী সাহাবী ও উসমান রা. শরীয়ত মানতে বাধ্য (মুকাল্লাফ) নন। তাদের জন্যে সব জায়েজ। অথচ ব্যাপারটা এমন নয়। তারাও শরীয়তের আওতাভুক্ত। তারাও শরীয়ত মানতে বাধ্য। 
.________________________________-


মোহরে জাব্বারিয়্যাতের মতো রাবতুল কুলূবও চার প্রকার,

১: আল্লাহভিমুখিতা (إِنابة إلى الله)। 
প্রথম আয়াত:
আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলে, আল্লাহ হেদায়াত দান করেন। 
وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ
উপদেশ তো সেই গ্রহণ করে, যে (হেদায়াতের জন্যে) আন্তরিকভাবে রুজু হয় (মু’মিন ১৩)। 
.
দ্বিতীয় আয়াত:
হেদায়াতের পূর্বশর্ত হল, আল্লাহর অভিমুখী হওয়া। 
وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
আর যে-কেউ তাঁর অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন (শুরা ১৩)। 
.

২: হেদায়াত (هداية)। 
আল্লাহর অভিমুখী হয়েছে, তাই হেদায়াত পেয়েছে। 
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ 
(অপর দিকে) যারা বলেছে, আমাদের রব আল্লাহ! (ফুসসিলাত ৩০

.
৩: অবিচলতা (استقامة)। 
আল্লাহকে ‘রব্ব’ বলে মেনে নিয়েছে। তারপর অবিচল থেকেছে। 
ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ
তারপর তারা তাতে থাকে অবিচলিত, নিশ্চয়ই তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হবে (ফুসসিলাত ৩০)।
.

৪: রাবতুল কুলূব (ربط القلوب)। 
কলবকে সুদৃঢ়করণ। আগের তিনটা স্তর পার হয়ে এলে, আল্লাহ তা‘আলা তার কলবকে হেদায়াতের সাথে সুস্থিত করে দেন। 
نَّحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ ۚ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى وَرَبَطْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَٰهًا ۖ لَّقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا
আমি আপনার কাছে তাদের ঘটনা যথাযথভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল একদল যুবক, যারা নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদেরকে হিদায়াতে প্রভূত উৎকর্ষ দান করেছিলাম। আমি তাদের অন্তর সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম। এটা সেই সময়ের কথা, যখন তারা (রাজার সামনেই) দাঁড়াল এবং বলল, আমাদের প্রতিপালক তিনিই, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবীর মালিক। আমরা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে কখনই ডাকব না। তাহলে তো আমরা চরম অবাস্তব কথাই বলব 

(কাহফ১৩-১৪)। 
.

একজন মানুষের যখন ‘ইনাবত’ হাসিল হয়ে যায়, তারপর ইস্তেকামত থাকে, তারপর ‘রাবতুল কুলুব’ হাসিল হয়ে যায়, তার সমস্ত কাজ আল্লাহর মরযি (চাহিদা) মোতাবেক হয়ে যায়। আল্লাহর মরযির বিপরীত কোনও কাজই তার দ্বারা সংঘটিত হয় না। বদরী সাহাবী ও উসমান রা.-এর ব্যাপারটাও ঠিক এমনি ছিল। তারা তিনটি স্তর পার হয়ে, চতুথৃ স্তর রাবতুল কুলুব হাসিল করেছিলেন। মানে তাদের দ্বারা আল্লাহর মরযির বিপরীত কোনও কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। .হাদীসের অর্থও এটাই। তারা শরীয়তের ‘মুকাল্লাফ’ নন, এই অর্থ বুঝে নেয়াটা ভুল। তাদের দ্বারা কোনও গুনাহের কাজ সংঘটিত হবে না, এটাই ছিল হাদীসের অর্থ। আগাম সংবাদ দেয়ার মতো। .



একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে,----------------------------------

ছেলেবেলা থেকেই বাবার সাথে ব্যবসা করছে। বাবা দীর্ঘদিন ধরে হাতেকলমে সন্তানকে ব্যবসা শিখিয়েছেন। সন্তানকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে তার হাতে ব্যবসা সঁপে দিয়েছেন। ঘোষণা দিয়েছেন,
-দোকান-পাট আজ থেকে তোমার হাতে ছেড়ে দিলাম। তোমার যেভাবে ইচ্ছা ব্যবসা চালিয়ে যাও। যা ইচ্ছা করো! 
বাবার কথা শুনে কি কেউ বলবে, হায় হায়, বাবা যে ছেলেকে, এতদিনের ব্যবসা নষ্ট করার অনুমতি দিয়ে দিল? অথবা ছেলেওকি বাবার কথা শুনে ব্যবসাকে লাটে তুলে দিবে? নাকি আরও বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা সাজানোর চেষ্টা করবে?
.
আল্লাহ তা‘আলাও বিশেষ বান্দাকে ‘যা ইচ্ছা করার অনুমতি দিয়েছেন! তার মানে এই নয়, তাদেরকে গুনাহের ঢালাও অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ জানেন, বদরী সাহাবাগণ বা উসমান রা. ভবিষ্যতে গুনাহের কাজ করবেন না, তাই তাদের ব্যাপারে এমন উদার কথা বলেছেন। 
বুখারির হাদীসটা নিয়েও একই কথা। আল্লাহ তা‘আলা প্রিয় বান্দা হাত হয়ে যান, পা হয়ে যান। মানে ওই বান্দার দ্বারা পরে আর গুনাহ সংঘটিত হবে না। যতদিন আল্লাহর প্রিয় (ওলী) হয়ে থাকবে, অন্তত ততদিন আল্লাহর মরযির বিপরীত কোনও কাজ করবে না। আল্লাহ তা‘আলা বান্দার হাত-পা কিভাবে হবেন?
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ
কোনও জিনিস নয় তাঁর অনুরূপ (শুরা ১১)। 

.______________________________________

তাই উপরোক্ত ব্যাখ্যাটাই গ্রহণ করাই নিরাপদ। নাহলে বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ ধরতে শুরু করলে, দুনিয়ার কেউই নিরাপদ থাকবে না। একবার এক সাহাবী একটা কাজের কথা বললেন। উমার রা. সেকথা শুনে বললেন,
-আমরা এটা করব না। 
অথচ সাহাবীর প্রস্তাবিত কাজটি নবীজি করেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে কেউ বলে বসতে পারে, 
-উমার রা. নবীজি সা.-এর বিরোধিতা করল?
অথচ বাস্তবতা হল, নবীজির কাজটা ‘নবীসুলভ’ ছিল। মুস্তাহাব পর্যায়ের। উম্মতের জন্যে তা বড়জোর ‘জায়েজ’ ছিল। ওই জায়েজ কাজটি উমার রা. বিশেষ কোনও পরিস্থিতিতে করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হয়তো পরে কাজটা ঠিকই করেছেন। 
.
এমন প্রশ্ন পেয়ারা নবীজি সা. সম্পর্কেও ওঠানো হয়েছিল (নাউযুবিল্লাহ)। 
لِّيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ
(হে রাসূল!) যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ত্রুটি ক্ষমা করেন (ফাতহ ২)। 
.
এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ থেকে অল্পবুদ্ধির কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে, নবীজির কি তাহলে গুনাহ ছিল?

 নইলে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ (ذنب) মাফ করার কথা বললেন যে?
এর উত্তর হল,
প্রচলিত অর্থে আমরা যেটাকে গুনাহ মনে করি,নবীগন এমন কোনও কাজ করেননি। তবে কখনো কখনো এমন হয়, দুই ভালোর মধ্যে একটা বেছে নিতে হয়। নবীগন কখনো ইজতিহাদ করে, অপেক্ষাকৃত কম ভালোটা গ্রহণ করে ফেলেন। এমন ইজতিহাদকেই কুরআন কারীমে ‘যানব’ (ত্রুটি) বলা হয়েছে। বাস্তবে কোনও গুনাহ নয়। একটা কথা আছে,
حَسَناتُ الأَبْرَار سَيِّئاتُ المُقَرَّبِيْن
নেককারদের সবচেয়ে ছোট নেকআমলও অনেক সময় আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তদের কাছে ‘গুনাহ’ বলে বিবেচিত হয়। 
.
কথাটা শুধু বোঝানোর জন্যে বলা হয়। নাহলে নেকআমল কোনও অবস্থাতেই গুনাহ হতে পারে না।


কলব তৈরী না থাকলে, হেদায়াত নসীব হবে না। কুরআন পড়েও হেদায়াত লাভ হবে না। mufti atik ullah


কুরআন বোঝার মূলনীতি: ১৫আল্লাহভিমুখিতা (إنابة)। 

_______________________________
কুরআন কারীমের বিভিন্ন আয়াত দেখলে বোঝা যায়, হেদায়াতের পূর্বশর্ত হল, ইনাবত। আল্লাহঅভিমুখিতা। আল্লাহর দিকে কায়মনোবাক্যে সমর্পিত হওয়া। 
অন্তরে বিন্দুমাত্র ‘হঠকারিতা’ একগুঁয়েমী, অন্ধ অহমিকা, জাহিলিয়্যাতপ্রীতি, কুফরপ্রীতি থাকলে, বিশুদ্ধ ঈমান নসীবে জুটবে না। 
.

প্রথম আয়াত:
কুরআনের উপদেশ কার জন্যে?
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
নিশ্চয়ই এর ভেতর এমন ব্যক্তির জন্যে উপদেশ রয়েছে, যার আছে অন্তর কিংবা যে মনোযোগ দিয়ে কর্ণপাত করে (কাফ ৩৭)।
.
দ্বিতীয় আয়াত:
কুরআনী হিদায়াত কার জন্যে?
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
(এবং বলা হবে,) এটাই তা যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হত প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী (গুনাহ থেকে) আত্মরক্ষাকারীর জন্যে। যে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে তাঁকে না দেখেই এবং আল্লাহর দিকে রুজুকারী অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হয় (কাফ ৩২-৩৩)।
.
তৃতীয় আয়াত:
হেদায়াত বান্দার ইচ্ছায় নয়, আল্লাহর ইচ্ছায়।
قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ
বলে দিন, আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন আর তিনি তাঁর পথে কেবল তাদেরকেই আনয়ন করেন, যারা তাঁর দিকে রুজু হয় (রা‘দ ২৭)।
.
চতুর্থ আয়াত:
কুরআন বোঝার জন্যে, একটু জ্ঞানগম্যি, বুদ্ধিশুদ্ধি থাকাও জরুরী।
هَٰذَا بَلَاغٌ لِّلنَّاسِ وَلِيُنذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ
এটা সমস্ত মানুষের জন্যে এক বার্তা এবং এটা এই জন্যে দেওয়া হচ্ছে, যাতে এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং যাতে তারা জানতে পারে সত্য মাবুদ কেবল একজনই এবং যাতে বোধ সম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে (ইবরাহীম ৫২)।
.
পঞ্চম আয়াত:
আমি চাইলেই হবে না, আল্লাহর বাছাইয়ে টিকতে হবে।
اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
আল্লাহ যাকে চান বেছে নিয়ে নিজের দিকে টানেন। আর যে-কেউ তাঁর অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন (শুরা ১৩)।
.
ষষ্ঠ আয়াত:
কুরআন কি আমার জন্যে? আমি কি মুত্তাকী?
هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
এটা হিদায়াত ভীতি অবলম্বনকারীদের জন্যে (বাকারা২)।
.
সপ্তম আয়াত:
ইনাবত ও তাকওয়া উভয়টাই জরুরী।
فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আল্লাহর সেই ফিতরত অনুযায়ী চলুন, যে ফিতরতের উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনও পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়। এটাই সম্পূর্ণ সরল দীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (ফিতরতের অনুসরণ কর) তাঁরই (অর্থাৎ আল্লাহরই) অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় করুন, নামায কায়েম করুন এবং অন্তর্ভুক্ত হবেন না মুশরিকদের (রূম ৩০-৩১)।
.

কলব তৈরী না থাকলে, হেদায়াত নসীব হবে না। কুরআন পড়েও হেদায়াত লাভ হবে না।

mufti atik ullah----------------

হেদায়াত গ্রহণ ও গোমরাহী বর্জনের ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার কোনও মূল নেই। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব-নির্ধারিত হয়ে আছে। কিছু লোক এমনটা মনেও করে। এদেরকে ‘জাবারিয়া’ বলা হয়। এরা মানুষকে অক্ষম (মাজবুর) মনে করে। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। নিজের কর্মে বান্দার কোনও হাত নেই। mufti atik ullah

কুরআন বোঝার মূলনীতি: ১৩
মাসয়ালায়ে জাব্বারিয়্যত (مُهر جَبّارِيْة)। 

-
এই মূলনীতি দ্বারা মূলত, কুরআন কারীমের কিছু আয়াতের উপর উত্থাপিত আপত্তির জবাব দেয়া হয়। কয়েকটা আয়াত নমুনাস্বরূপ দেখতে পারি,
প্রথম আয়াত:
خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ
আল্লাহ তাদের অন্তরে ও তাদের কানে মোহর করে দিয়েছেন (বাকারা ৭)।
.
দ্বিতীয় আয়াত:
يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا ۚ
(এভাবে) আল্লাহ এ উদাহরণ দ্বারা বহু মানুষকে গোমরাহীতে লিপ্ত করেন এবং বহুজনকে হিদায়াত দান করেন (বাকারা২৬)।
.
তৃতীয় আয়াত:
يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ
তিনি যাকে ইচ্ছা (তার জেদি আচরণের কারণে) বিভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন (নাহল ৯৩)।
.
চতুর্থ আয়াত:
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ
(হে রাসূল!) সত্যি কথা হল, আপনি নিজে যাকে ইচ্ছা করবেন তাকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করতে পারবেন না; বরং আল্লাহ যাকে চান হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন (কাসাস ৫৬)। 

.

এ-ধরনের আয়াতগুলো দেখলে মনে হয়, মানুষ বেকসুর ও অক্ষম (মজবুর)। হেদায়াত গ্রহণ ও গোমরাহী বর্জনের ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার কোনও মূল নেই। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব-নির্ধারিত হয়ে আছে। কিছু লোক এমনটা মনেও করে। এদেরকে ‘জাবারিয়া’ বলা হয়। এরা মানুষকে অক্ষম (মাজবুর) মনে করে। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। নিজের কর্মে বান্দার কোনও হাত নেই।
কেউ কেউ এ ধরনের আয়াত দেখে, ‘তাকদীর’কেই অস্বীকার করে বসে। আয়াতগুলো দেখে তারা বোঝে, মানুষ যদি ‘মাজবুর’ হতো, তাহলে শরীয়ত পালনের বাধ্যবাধকতা তার থাকত না। কারণ, সবকিছু যখন আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত, তাহলে শরীয়তে বিধি-নিষেধের মূল্য কোনও মূল্যও নেই আর বান্দার শরীয়ত মানতে বাধ্য (মুকাল্লাফও) নয়। যেহেতু মুকাল্লাফ (শরীয়ত মানতে বাধ্য) নয়, তাই তার আযাব-গযবও নেই। এই চিন্তা থেকে তারা মানুষকে পরিপূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী (মুখতারে কুল) এবং তার নিজের সমস্ত কর্মের কর্তা (খালেকে আফ‘আল) আখ্যায়িত দেয়। এই দলকে বলা হয়, কদরিয়্যা।
.
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা উপরোক্ত দুই দলের মাঝামাঝি। তারা বিশ্বাস করে, আল্লাহ তা‘আলাই সমস্ত কর্মের স্রষ্টা। এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে মানুষকে ভালোকর্ম বা মন্দকর্ম বেছে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এজন্য মানুষ মুখতারে কুলও নয়, খালেকে আফ‘আলও নয়। 

.

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, তাকদীরের প্রকারগুলো একটু জেনে নেয়া যাক। 

তাকদীর চার প্রকার,-------------------------------------
১: জ্ঞানগত তাকদীর (تقدير علمي)।
কোনও কিছু ঘটার আগে, সেই শুরু থেকেই তার জ্ঞান বা অবগতিমূলক তথ্য আল্লাহ কাছে আছে।
.
২: লিখিত তাকদীর (تقدير كتابي)।
সৃষ্টির সূচনারও আগে থেকে, প্রতিটি বস্তুর পরিণতি, লিখে রেখেছেন। যেমন অমুক জান্নাতি, অমুক জাহান্নামী।
.
৩: ইচ্ছামূলক তাকদীর (تقدير إرادي)।
মানুষ যে কাজই করুক, তার কাজের সাথে আল্লাহ ইচ্ছা (ইরাদা)-ও যুক্ত থাকে। আল্লাহ ‘ইরাদা’ না থাকলে, বান্দা কাজটা করতেই পারত না।
.
৪: সৃষ্টিগত তাকদীর (تقدير خلقي)।
আল্লাহ তা‘আলাই (ভালো বা মন্দ) প্রতিটি বস্তুর খালেক।
.

১: জাবারিয়্যা দলটি উপরোক্ত তাকদীরের প্রতিটি প্রকারকে মেনেই মানুষকে পরিপূর্ণ অক্ষম (مجبور محض) মনে করে।
২: কদরিয়্যারা শুধু তাকদীরের প্রথম প্রকার (تقدير علمي)-কে মেনে, বাকীগুলোকে অস্বীকার করে, মানুষকে মুখতারে কুল ও খালেকে আফ‘আল মনে করে।
৩: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত তাকদীরের সমস্ত প্রকারকে বিশ^াস করে বলে, মানুষ তার সমস্ত কর্মের ‘কাসেব’ (সম্পাদনকারী)। তবে ‘মাজবূরে মহদ’ নয়। আবার মুখতারে কুলও নয়।
.

এবার শুরুতে উত্থাপন করা অভিযোগের জবাবের দিকে নজর দেয়া যাক। 



-
আল্লাহ তা‘আলা আগে থেকেই কারো অন্তরে (কলবে) গোমরাহির (ভ্রষ্টতার) সীল (মোহর) মেরে দেন না। 
চারটা স্তর পার হওয়ার পর গোমরাহীর সীল মারেন।
১: সন্দেহ (شك)। দাওয়ায়ে তাওহীদের সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা।
২: ভ্রষ্টতা (ضلال/إضلال)। নিজেও ভ্রষ্ট হয় অন্যকেও ভ্রষ্ট করে।
৩: কূটতর্ক (مجادلة)। তাওহীদ গ্রহণ না করে, নবীর সাথে বা তাওহীদের দাওয়াত দানকারীর সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া।
৪: মোহরে জাব্বারিয়্যত (مهر جبارية)। উপরের তিনটা স্তর পার হয়ে গেলে, আল্লাহ তার অন্তরে সীল মেরে দেন যে, সে আর হেদায়াত পাবে না। 

.
কলোক অসুস্থ্য। ডাক্তার তাকে বিণামূল্যে ওষুধ দিয়ে বলেছেন, ওষুধটা এখুনি সেবন করে নিন। নইলে রোগ আরো বেড়ে যাবে। লোকটার মনে সন্দেহের উদ্রেক হল। ওষুধটা সেবন করলে সত্যি সত্যি আরোগ্য লাভ করব? এটা প্রথম ধাপ সন্দেহ (شك)।
ডাক্তার আবারও জোর দিয়ে তাকে ওষুধটা সেবন করে নিতে বললেন। রুগী ডাক্তারের পরামর্শ মানতে সরাসরি অস্বীকার করে বসল। এটা দ্বিতীয় স্তর (ضلال/إضلال)।
ডাক্তার তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার জলদি ওষুধটা সেবন করে নিতে বললেন। রুগি এবার ডাক্তারের সাথে তর্ক শুরু করে দিল। এটা কূটতর্ক (مجادلة)।
ডাক্তার দেখলেন, ওষুধ খেতে বিলম্ব করার কারনে, বেচারার রোগ আরোগ্যাতীত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এ কারণে, ডাক্তার লিখে দিয়েছেন, চিকিৎসাতীত।
.
কোনও সুস্থ্য বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এটা বলবে না, ডাক্তারের দোষেই রুগির চিকিৎসাতীত হয়েছে। সবাই রুগিকেই দুষবে।
.

আম্বিয়ায়ে কেরামও যখন কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে কাফেরদেরকে দাওয়াত দেন, কাফেররা প্রথমে সন্দেহ করে। তারপর গোমরাহ (ভ্রষ্ট) হয়। তারপর নবীগনের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা তার অবস্থা দেখে আরোগ্যাতীত লিখে দেন,
خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ
আল্লাহ তাদের অন্তরে ও তাদের কানে মোহর করে দিয়েছেন (বাকারা ৭)।
.
রুগির হঠকারিতায় ডাক্তারকে যেমন দোষা যাবে না, 
বান্দার হঠকারীতার কারণে গোমরাহীর চরম সীমায় পৌঁছে, কলবে সীল পড়ে যাওয়ায়, আল্লাহকে কেন (নাউযুবিল্লাহ) দোষা হবে? একটি আয়াতে উপরোক্ত চারটি স্তর একসাথে আছে,

وَلَقَدْ جَاءَكُمْ يُوسُفُ مِن قَبْلُ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا زِلْتُمْ فِي شَكٍّ مِّمَّا جَاءَكُم بِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَن يَبْعَثَ اللَّهُ مِن بَعْدِهِ رَسُولًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُّرْتَابٌ
বস্তুত এর আগে ইউসুফ তোমাদের কাছে এসেছিলেন উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী নিয়ে। তখনও তোমরা তার নিয়ে আসা বিষয়ে সন্দেহে পতিত ছিলে। তারপর যখন তার ওফাত হয়ে গেল, তখন তোমরা বললে, তারপর আর আল্লাহ কোনও রাসূল পাঠাবেন না। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় ফেলে রাখেন, যে হয় সীমালঙ্ঘনকারী সন্দিহান 
(মু’মিন ৩৪)। 
.

একটি দৃষ্টান্ত:---------------------

এক ব্যক্তি চুরি করেছে। স্বাক্ষী-সাবুদের ভিত্তিতে কাযি সাহেব চোরের হাত কাটার রায় দিলেন। রায় কার্যকর করা হল। কোনও বুদ্ধিমান মানুষ বলবে না,
ক. কাযির রায়ের কারণেই লোকটা চুরি করতে বাধ্য হয়েছে।
খ. কাযির দোষেই বেচারার হাত কাটা পড়ল।
.
আল্লাহ তা‘আলা পূর্বাপর সমস্ত বিষয়ে, স্বীয় ‘আগাম ইলমের’ সাহায্যে, মোহরে জাব্বারিয়্যত লিখে দিয়েছেন।

 আল্লাহ তা‘আলার এই লেখা বান্দাকে গোমরাহ হতে বাধ্য করেনি। বান্দা গোমরাহ হবে বলেই আল্লাহ তা‘আলা লিখেছেন।
.
আল্লাহ তা‘আলা আর কাযির লেখার মধ্যে পার্থক্য হল, কাযি চুরি করার পরে রায় লিখেছেন, আল্লাহ তা‘আলা কুফরি করার আগেই ‘মোহরে জাব্বারিয়্যত’ লিখে রেখেছেন। কাযি পরে লেখার কারণ, কাযির কাছে পূর্বাপরের ইলম নেই। আগাম ইলম নেই। এজন্য চুরি সংঘটিত হওয়ার পরেই কাযি চুরির ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলা আগে থেকেই কাফের কী করবে সেটা জানতেন, সেই জানা অনুসারেই ‘মোহরে জাব্বারিয়্যত’ লিখে দিয়েছেন।
.

তাকদীরে ইরাদি (تقدير إرادي) আর তাকদীরে খালকি (تقدير خلقي) একটু অস্পষ্ট থেকে গেছে। একটা উদাহরণ পেশ করা যাক। উপরে গিয়ে দুই তাকদীরের পরিচয় আবার জেনে নিতে পারি।
.
বন কর্তৃপক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হল, বনের শেষ প্রান্তে নদী আছে। নদীর পাড়ে যাওয়া ভীষণ বিপদজনক। সেদিকে যেন কেউ না যায়। যাওয়ার চেষ্টাও না করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা আছে, নিষেধাজ্ঞা ঠেলে কেউ যেতে চাইলে, তাকে যেন যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেয়া হয়।
.

এমনি,
আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর স্রষ্টা। ভালো মন্দ কিছুর। সর্বময় কর্তা (ফায়েলে মুখতার)। তাই বান্দা যখন জেনেশুনেও মন্দ কাজের দিকে পা বাড়ায়, তখন আল্লাহ তাকে বাধা দেন না। কারণ বান্দাকে ‘বাছাইয়ের’ এখতিয়ার দিয়েছেন। বন্দা যেটাই বেছে নেয়, আল্লাহ ইচ্ছা (এরাদা)-ও তার সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

mufti atik ullah from -----------


Friday, 1 December 2017

[পর্ব-৩/শেষ]-- মুফতি তাক্বি উসমানী দা.বা. এর প্রবন্ধ: অনাহূত ভাবনা (ওয়াসওয়াসা রোগ) ও তার প্রতিকার -------------

১১. আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকুন------------------


ভ্রুক্ষেপ না করা সত্ত্বেও যদি চিন্তার উৎপাত বন্ধ না হয় তাহলে এই কষ্টের উপরই সন্তুষ্ট থাকুন। 

কেননা, আপনার সম্পর্কে এটাই আল্লাহর ফয়সালা। এটাই আপনার তাকদীর। 

আল্লাহ যদি চান, আমি জীবনভর এই অবস্থায় থাকি তবে তো আমার অসন্তুষ্ট হওয়ার উপায় নেই। 

আমার এই কষ্টভোগই যদি আল্লাহর মর্জি হয় তবে এতেই আমি সন্তুষ্ট। কবি বলেন-
‘না মিলন উত্তম না বিচ্ছেদ। প্রিয় যাতে সন্তুষ্ট, উত্তম তাই।’


আল্লাহ যে হালতে রাখেন তাই আমার জন্য ভালো। 

অতএব চিন্তা-ভাবনায় জর্জরিত হয়েও আমি খুশি। 

কবির ভাষায় :

 তোমার এই এখতিয়ার নেই যে, পরিবেশিত শরবত সম্পর্কে মন্তব্য কর-তা স্বচ্ছ কি ঘোলা; বরং সাকী তোমার পেয়ালায় যা কিছু ঢেলে দিয়েছে তাই তার করুণা।


তাৎপর্য বুঝে আসুক বা না আসুক, কারণ পরিষ্কার হোক বা না হোক আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্বাচন করেছেন তা-ই তাঁর করুণা।

--

১২. তোমার জন্য এটাই মুনাসিব------------------


অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, অমুকের তো এই সমস্যা নেই। সে কত শান্তিতে আছে। 

অমুক শায়খের সঙ্গে তার সম্পর্ক! আর আমি এই সব অনাহূত ভাবনায় জর্জরিত। এই হালতের জন্য কি আমিই উপযুক্ত ছিলাম? এই অস্থিরতার অনলে আমাকেই কেন দগ্ধ হতে হবে?


মনে রাখতে হবে যে, এটা অস্থিরতা ও ধৈর্য্যহীনতা। 

ভাই, তোমার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে এটাই তোমার জন্য উপযোগী আর তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা তার জন্য উপযোগী। 

এটাও তাঁর দান, ওইটাও তাঁর দান। 

তার জন্য ওই অবস্থাটা ভালো, তোমার জন্য তোমার অবস্থা। তুমি যদি এই কষ্টের উপর ধৈর্য্য ধারণ করতে পার তবে আল্লাহর কাছে তোমার কি সমুচ্চ মর্তবা হাসিল হবে তুমি কি তা কল্পনাও করতে পার? 

অতএব অন্যের দিকে তাকাবে না। তুমি যা পেয়েছ তা তোমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।


আমার পেয়ালায় রয়েছে পানশালার সারাৎসার
আমাদের হযরত ডা. আবদুল হাই ছাহেব রা. একটা পংক্তি পড়তেন-
যার অর্থ : 

কে কী পেল, কতটা পেল তাতে আমার কী আসে যায়। আমার পেয়ালায় আল্লাহ যা দিয়েছেন আমার জন্য তো এটাই পানশালার সারবস্ত্ত।
--

১৩. সবরের আলাদা ছওয়াব রয়েছে----------------


 নিজের দায়িত্ব পালন করতে থাকুন। আর যেসব ভাবনায় আপনার ইখতিয়ার নেই তাতে মনোযোগ দিয়েন না। আর এ কারণে যে কষ্ট হয় তার সম্পর্কে ভাবুন যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এটা তাঁরই ফয়সালা। 

তাকদীর। 

অতএব আমি এতে সন্তুষ্ট। এর ফলাফল এই হবে যে, এই সব চিন্তা আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না; বরং কষ্টের উপর সবর করার কারণে ছওয়াব পাওয়া যাবে এবং আল্লাহর কাছে মর্তবা বুলন্দ হবে। 

অতএব এতে সুফলই সুফল, ক্ষতি কিছুমাত্রও নেই।
আপনি যখন ভাববেন যে, আল্লাহ আমার জন্য যা ফয়সালা করেছেন তাতেই আমি রাজি এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট তো ‘রিযা বিলকাযা’ 

(আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার) ছওয়াব আপনার আমল নামায় যুক্ত হবে। এছাড়া সবরের ছওয়াব তো আছেই।

--

১৪. দুনিয়াতে তো কষ্ট হয়েই থাকে-------------------------


দুনিয়াতে মানুষ যতই সাধ্য-সাধনা করুক, যতই যে বাদশাহ-আমীর হোক, পূর্ণ শান্তি কেউ পায় না। কেননা, দুনিয়া পূর্ণ শান্তির স্থানই নয়।
আল্লাহ তাআলা তিনটি জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এক জগত, যেখানে শুধু শান্তি আর শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা-পেরেশানী কিছুই নেই। এটা হল জান্নাত। 

দ্বিতীয় জগত যেখানে শুধু অশান্তি আর অশান্তি, শান্তির লেশমাত্রও নেই। এই জগত জাহান্নাম। 

আর তৃতীয় জগত হল দুনিয়া, যাতে আমাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। এতে শান্তি যেমন আছে তেমনি অশান্তিও আছে। সুখের সঙ্গে দুঃখ আছে। এখানে কোনো আনন্দই নিরঙ্কুশ নয়, বিপদের কাঁটা তার সঙ্গে যুক্ত আছে। 

অতএব কেউ যদি কামনা করে, আমি শুধু শান্তিই পাব, দুঃখ ও পেরেশানী যেন আমাকে স্পর্শ না করে তবে তা কখনও পূরণ হবে না। যত বড় পুঁজিপতি হোক, শাসক হোক, সম্পদশালী হোক, জ্ঞানী-গুণী হোক, আলিম-ফাযিল হোক তাকে জিজ্ঞাসা করুন, কখনোই কি কোনো কষ্ট তোমার হয়নি? 

তার পক্ষে না বলা কখনো সম্ভব হবে না। অবশ্যই কোনো না কোনো কষ্টের স্বাদ তাকে আস্বাদন করতে হয়েছে।


অতএব এই দুনিয়াতে কষ্ট ভোগ করতেই হবে। এখন ইচ্ছা হলে এতে সবরও করা যায়, ইচ্ছে হলে বেছবরীও করা যায়। বান্দা যদি আল্লাহর ফয়সালায় এই বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে যে, যে কষ্ট তাঁর পক্ষ থেকে এসেছে আমি তাতে রাজি। তাহলে সে আল্লাহ তাআলার শুভ সংবাদকে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। 

ইরশাদ হয়েছে- (তরজমা)

‘নিশ্চয়ই সবরকারীদেরকে দেওয়া হবে অগণিত বিনিময়।’


এজন্য এই পৃথিবীতে যত শান্তি ‘রিযা বিলকাযা’র দ্বারা পাওয়া যায় তত আর কোনোভাবেই পাওয়া যায় না।


হযরত বাহলূল মাজযূব এর ঘটনা-----
হযরত বাহলূল মাজযূব রাহ.কে কেউ জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন? 

তিনি বললেন, খুব ভালো আছি। অত্যন্ত শান্তিতে আছি। 

লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, কেমন শান্তি? 

তিনি বললেন, আরে ভাই, ওই লোকের শান্তির পরিমাপ কে করতে পারে যার ইচ্ছার বিপরীতে কিছুই পৃথিবীতে হয় না! জগতের সকল বিষয় তো আমার ইচ্ছা মাফিক হচ্ছে! 

লোকেরা বলল, জনাব, পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এমন কেউ আসেনি, যার ইচ্ছে মাফিক সবকিছু হয়েছে। এমনকি নবীগণেরও ইচ্ছা-বিরোধী অনেক কিছু ঘটেছে। 

আপনার এমন কোন মাকাম হাসিল হয়ে গেল যে, আপনার ইচ্ছে বিরোধী কোনো কিছুই ঘটে না?

 তিনি বললেন, প্রকৃত বিষয় এই যে, আমি নিজের ইচ্ছাকে মাওলার ইচ্ছায় বিলীন করে দিয়েছি। তাঁর যা ইচ্ছা সেটাই আমার ইচ্ছা। তিনি যাতে খুশি আমিও তাতে খুশি। 

আর যেহেতু বিশ্বজগতে কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বিপরীতে ঘটে না তাহলে আমারও ইচ্ছার বিরোধী কোনো কিছু নেই। সমর্পণের এই শান্তি নিজ ফযল ও করমে আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করেছেন।
--

১৫. ‘রিযা বিলকাযা’ তে রয়েছে প্রশান্তি---------------


মোটকথা, রিযা বিলকাযার চেয়ে বড় শান্তির উপায় আর নেই। এখন বান্দা এই পন্থায় শান্তি লাভ করতে পারে কিংবা শান্তির অন্বেষায় জীবনভর ছটফট করতে পারে।
হযরত রাহ.-এর উপরোক্ত মালফুযের সারকথা এই যে, ভ্রুক্ষেপহীনতা সত্ত্বেও যদি এই সব অনাহুত ভাবনা দূর না হয়; বরং যথারীতি তা আসতেই থাকে তাহলেও ভীত ও পেরেশান হওয়ার কারণ নেই। এক্ষেত্রে এই ভেবে হালতের উপর সন্তুষ্ট থাকাই কাম্য যে, আল্লাহ যখন আমার জন্য এটাই পছন্দ করেছেন তো আমি তাতে খুশী। তবে ওই সব ভাবনা মোতাবেক কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
আল্লাহ তাআলা আমাকে এবং আপনাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

-------abdullah al mamun
মূল প্রবন্ধ : মুফতি তকী উছমানী
অনুবাদ : মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ

নিজে পড়ুন অন্যের সাথে শেয়ার করুন